মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত কলমাকান্দা: সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীগর্ভে বিলীন বিদ্যালয়ের ভবন শেষ বয়সে অমানবিক কষ্টে জীবন কাটছে বীরাঙ্গনা মনোরানী বেওয়ার, সরকারি সহায়তার আকুতি ​ ফতুল্লায় মধ্যরাতে পুকুরে বিষ! পানিতে ভাসছে আড়াই লাখ টাকার মরা মাছ রক্তাক্ত আর্জেন্টিনার হৃদয়, বিশ্বফুটবলের নতুন রাজা স্পেন! যুবদল সভাপতিকে ‘টাকা খোর’ বলে ফেসবুক পোস্ট, সোনারগাঁ বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ না এলে ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নতুন কমিটি গঠন: অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় শীতলক্ষ্যায় জাহাজে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১৩’শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ সড়কে নাসিকের নামে ‘নীরব চাঁদাবাজি’ জিম্মি পরিবহন চালকরা

সড়কে নাসিকের নামে ‘নীরব চাঁদাবাজি’ জিম্মি পরিবহন চালকরা

মো. সোহেল আহমেদ / ৬৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

​নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) লোগো ও নাম ব্যবহার করে সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয়দের দাবি, সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হলেও আদতে এটি একটি সুকৌশলী ও নীরব চাঁদাবাজি, যা বন্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

​নগরীর নিউ মেট্রো সিনেমা হলের সম্মুখস্থ সড়ক, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, পিকআপ ও সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এই অর্থ আদায়ের চিত্র দেখা গেছে।

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্থ আদায়ের জন্য ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন’ উল্লেখ সংবলিত নীল রঙের একটি ‘টোল ফি আদায়ের রশিদ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রশিদটিতে একাধিক গুরুতর অসংগতি ও জালিয়াতির ছাপ স্পষ্ট। রশিদটিতে সন হিসেবে ‘২০২৬’ উল্লেখ থাকলেও, চালকদের ধরিয়ে দেওয়া রশিদের হাতে লেখা তারিখে ‘২৪/৭/২৮’ (২৪ জুলাই ২০২৮) লেখা রয়েছে, যা অগ্রিম এবং অবাস্তব। নিচে আবার ‘২০২৬ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত’ সেশনের কথা উল্লেখ আছে।

রশিদে নির্দিষ্ট কোনো ফি ছাপানো নেই। পেনসিল বা কলম দিয়ে কেটে ইচ্ছেমতো ‘১৫০ টাকা’ এবং ‘১০০ টাকা’ লিখে আদায় করা হচ্ছে। রশিদে ‘১০ চাকা বাস/ট্রাক টুল’ এবং ‘৬ চাকা ট্রাক টুল’ এর মতো বিভ্রান্তিকর বিবরণী ব্যবহার করা হচ্ছে।

রশিদের নিচে ইজারাদার হিসেবে ‘মোঃ নজরুল ইসলাম’-এর নাম ব্যবহার করা হলেও ‘আদায়কারীর স্বাক্ষর’ স্থানটি সম্পূর্ণ খালি।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চালক জানান, মহাসড়ক কিংবা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ব্যস্ত সড়কে এভাবে যত্রতত্র স্ট্যান্ড বসিয়ে বা গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা না মেনে কেবল একটি দায়সারা রশিদের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হেনস্তার শিকার হতে হয়।

​স্থানীয় সচেতন মহল একে “বৈধতার মোড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করায় সাধারণ চালকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন।

একাধিক ভুক্তভোগী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চালক জানান,​সড়ক ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষকে এই আর্থিক হয়রানি থেকে রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। নাসিক কর্তৃপক্ষ এই ইজারা বা টোল আদায়ের বিষয়ে অবগত কি না, কিংবা কোনো চক্র নাসিকের নাম ভাঙিয়ে এই অপরাধ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর