জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বিএনপি নেতার বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। সমালোচনা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পোস্টটি দ্রুত মুছে ফেলা হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে বইছে বিতর্কের ঝড়।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মো. জলিল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্নার ছবি জুড়ে দিয়ে ক্যাপশনে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে লেখেন “(টাকা খোর)”।
মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটির স্ক্রিনশট স্থানীয় নেতাকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভাইরাল রূপ নেয়। নিজ দলের শীর্ষসারির একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন যুবদল ও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টটি নিজের আইডি থেকে সরিয়ে নেন ওই বিএনপি নেতা। তবে ততক্ষণে ঘটনাটি ঘিরে দলীয় অভ্যন্তরে গভীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. জলিলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফেসবুক পোস্টের দায় অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়েছিল এবং তার ফেসবুক আইডিটি হ্যাকড হয়েছিল। তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে তার এমন দাবিকে ঘিরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মনে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘটনার আগের দিনগুলোতেও তার ওই ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিটি সম্পূর্ণ সচল ছিল এবং সেখানে তিনি নিয়মিত দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, ছবি ও ভিডিও আপলোড করে আসছিলেন। হঠাৎ করে শুধু এই বিতর্কিত পোস্টটির সময়ই আইডি হ্যাক হওয়ার দাবিকে অনেকেই ‘কৌশলী অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনার পর সোনারগাঁয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কেন্দ্রীয় একজন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে স্থানীয় নেতার এমন আচরণে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর গুঞ্জন।