অতিবৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনে আবাদি জমি বালুচাপায় নষ্ট হয়েছে, ভেসে গেছে মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে খারনৈ ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাজিরপুর, লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীভাঙনের ফলে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া একাধিক মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে, খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র আঘাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রবল স্রোতে বিদ্যালয়ের একটি অফিস কক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, মুহূর্তের মধ্যেই নদীর ভাঙনে ভবনের অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। তারা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও এবার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।