নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে বিষপ্রয়োগ করে আড়াই লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী মো. সালাউদ্দিন (৫২) বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফতুল্লার পিলকুনি জোড়া মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি পুকুর ভাড়া নিয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে বিভিন্ন উন্নত জাতের মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার আত্নীয় আমীর হোসেন (৪৫) ও রিমনের (২২) সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। উক্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা তাকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার পাঁয়তারা করছিল এবং তার মৎস্য ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা সংগঠিত হয়ে ভুক্তভোগীর বসতবাড়ির সামনে এসে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা এবং পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে গত ১৮ জুলাই দুপুরে স্থানীয়দের মারফত সালাউদ্দিন জানতে পারেন তার চাষকৃত পুকুরে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে উঠছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান রুই, কাতল, কালিবাউশ, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পরিমাণ মাছ মরে পানিতে ভাসছে।
পরদিন ১৯ জুলাই সকালে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে পুকুরে অবশিষ্ট থাকা আরও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মাছ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুদিনে মোট প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ মরে ভেসে ওঠায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই মৎস্য চাষী।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের বরাত দিয়ে এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তদের পুকুরপাড় দিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওইদিন রাতের যেকোনো সময়ে প্রতিপক্ষরা কৌশলে পুকুরে বিষাক্ত বস্তু প্রযোগ করে এ নিধনযজ্ঞ চালায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন জানান, দীর্ঘ দুই দশকের কষ্টার্জিত ব্যবসায় বিষ ঢেলে আমাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই নির্মম ও অন্যায্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।