নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ব্যাংকের বুথে ঢুকে টাকা লুটের প্রস্তুতির সময় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে পঞ্চবটী মোড়স্থ গফুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় ইসলামী ব্যাংকের বুথের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফতুল্লা মডেল থানার পঞ্চবটী গুলশান রোড এলাকার মৃত মজিদ মাতবরের ছেলে কামাল মাতবর (৪২) এবং রূপসী হাউজিং এলাকার মৃত সাত্তার প্যাদার ছেলে কামাল প্যাদা (৪২)। উভয়েরই গ্রামের বাড়ি বরিশ আমতলী থানা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল ও মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের বুথে ডাকাতি ও লুটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত কামাল প্যাদার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটিরও বেশি এবং কামাল মাতবরের বিরুদ্ধে ২৬টির অধিক ডাকাতি ও লুটের মামলা রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন সরকার জানান, শনিবার রাতে পঞ্চবটী গফুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা লুটের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয় ওই দুই ডাকাত। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে তারা বুথের নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে গল্পজুড়ে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর সুযোগ বুঝে বুথের টাকা লুট করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে কামাল মাতবরকে আটক করে। পরে বুথের সামনে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে আলাপচারিতাসরত অবস্থায় কামাল প্যাদাকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের বুথ লুটের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার সাথেও এই দুজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওই ঘটনায় দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা ও কয়েক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পাগলা ক্যানেলপাড়ের ডাকাতির ঘটনার সাথেও তাদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।