শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
বন্দরে জোড়া খুন, স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, পালানোর বদলে ৯৯৯-এ ফোন স্বামীর! বন্দরে শ্রমকল্যাণ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে মন্ত্রী, অনিয়মের দায়ে ৫২ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল নবীগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে মিনি পতিতালয় ও মাদকের কারবার: দুই নারীসহ ৩ জন আটক মমিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে কে-গাতী ইউনিয়ন যুবদলের বিক্ষোভ, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম আমতলীতে ইউপি কর্মকর্তার পকেটে রাজস্বের লাখ লাখ টাকা! মৌলভীবাজারে দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জন খালাস মুসলিম তরুণীদের টার্গেট করে হিন্দু যুবকের গোপনে একাধিক ভিডিও ধারণের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত ফতুল্লায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার আবারও পৌর শ্মশানে ঢুকতে অপরাধের মহানায়ক সবুজের অপচেষ্টা!

ফতুল্লায় বিএনপি নেতা টিটুর ভাই-ভাতিজাদের মাদক ব্যবসায় সর্ম্পৃক্ততার অভিযোগ!

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ২৬৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর ভাই স্বপন ও তপন, ভাতিজা মোল্লা রাজু এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কুতুবপুরের অন্যতম দুই শীর্ষ মাদক বিক্রেতা আক্তার ওরফে কিলার আক্তার এবং মিথুনের সরবরাহকৃত মাদক দিয়েই নাকি তারা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আর স্থানীয়দের দাবী,শহিদুল ইসলাম টিটু ক্ষমতাসীন দলের থানা কমিটির শীর্ষ পদে থাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উপরোক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে সাহস করছেনা।

জানা যায়,ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু কুতুবপুরের দূর্ধর্ষ মাদকের ডিলার কিলার আকতারের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মুল্যের গাড়ি ও দামি আইফোন নিয়েছিলেন মর্মে ইতিপুর্বে স্থানীয় গনমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।

এয়াড়াও তার স্ত্রী গয়না এবং ছেলেকে মোটর সাইকেল কিনে দেয়ারও সংবাদ রয়েছে এই মাদকের সম্রাট আকতারের টাকা দিয়ে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে কিলার আক্তার নাকি মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে যান টিটুকে ।

একাধিক সুত্র হতে জানা যায়,নারায়নগঞ্জ জেলার মধ্যে মাদকের ভয়াবহ স্পট হচ্ছে পাগলা,নয়ামাটি, দেলপাড়া। ইয়াবা, ফেন্সিডিল,গাঁজা, হেরোইন এমন কোন মাদক নেই যে পাওয়া যায়না।

জেলে পাড়ার মিঠু, নুরবাগের লুলা লিখনের কাছ থেকে প্রতি মাসে টিটুর ভাই তপন, স্বপন, ভাতিজা মোল্লা রাজু মাদক এনে মাদ্রাসায় বসে বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও নাককাটা বাড়ি এলাকার অন্যতম মাদক বিক্রেতা পিংকির বাড়িতে মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসা করানোর অভিযোগ রয়েছে টিটুর ভাতিজা রাজুর বিরুদ্ধে।

কুতুবপুরের সব মাদক ব্যাবসার স্পট গুলো এখন টিটুর নিয়ন্ত্রণে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

টিটু এখন সরাসরি মাদক ব্যবসা না করলেও ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন থেকেই টিটু নিয়মিত ফেন্সিডিল আর হিরোইন বিক্রি করতো বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করে এলাকাবাসী বলেন,এই কথা বিশ্বাস না হলে যারা ফেন্সিডিল খায় তাদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন টিটুর জড়িত থাকার বিষয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান,২৪’র ৫ আগষ্ট পরবর্তী পাগলা নয়ামাটির ঢালে অস্ত্র ব্যবসায়ী অপুর ভাগিনাকে ২টি ৬ এম.এম পিস্তল ও ৬টি রামদাসহ আটক করেছিল স্থানীয়রা।

অন্ত্রসহ অপুর ভাগিনা আটকের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকৃত ২টি ৬ এম.এম পিস্তলের একটি কিলার আক্তার ও অপরটি টিটুর ভাতিজা রাজু নিয়ে যায় বলে স্থানীয়সুত্রে জানা যায়।

স্থানীয়সুত্রে আরও জানা যায়, টিটুর ভাই স্বপন পাগলা এস.এম সুপার মার্কেটে রক্ষিত তার অফিসে বসেই নাকি মাদকসহ নানাবিধ অপকর্মের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এছাড়াও পাগলা তালতলা এলাকার যাবতীয় অপরাধকর্মগুলোর মহানায়ক হিসেবে এ স্বপনের নাম সকলের মুখে মুখে।

এ ব্যাপারে তপন মুঠোফোনে জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪.কমকে বলেন,এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার পরিবারে মাদক বিক্রি তো দুরের কথা কেউ খায় এ রকম প্রমান দিতে পারলে আইন যে শাস্তি দিবে সেটা মাথা পেতে নিবো।

আমার বড় ভাই শহিদুল ইসলাম টিটু থানা বিএনপির সভাপতি আপনার কি মনে হয়, আমরা এ কাজ করতে পারি।একটি বিরোধী পক্ষ রয়েছে তারা চায়না কেউ উপরে উঠুক। জানিনা আপনে কার সাথে কথা বলেছেন। তবে আমি ও আমার ভাই এবং পরিবারের কেউ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজু মোল্লা বলেন,মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টলতার বিষয়ে তিনি বলেন,আমার পরিবারের কেউ মাদকের সাথে জড়িত নয়। কিছু মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। যাদের নিয়ে ইতিপুর্বে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তাদের কাউকেই চিনিনা। আমিও চাই যুবসমাজ রক্ষার জন্য মাদক বিক্রেতাদের কঠোর শাস্তি হউক। যদি কোন মাদক বিক্রেতা পুলিশ কর্তৃক আটক হয় এবং আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউ ঘটনাস্থলে যায় কিংবা ফোন করে তাহলে যে শাস্তি দেবে সেটা মাথা পেতে নিবো। অস্ত্র সর্ম্পকে রাজু বলেন, আমিও সেটা শুনেছি। কিন্তু কোন অস্ত্র নেইনি। শুনেছি মুসলিমপাড়ার সেই ঘটনায় ঘটনাস্থলে আক্তার কাকা গিয়েছিল। অপু বর্তমানে নন্দলালপুর এলাকাতেই বসবাস করছেন এবং নতুন বাড়িও কিনেছে। অনেকে বলেছে অপু নাকি অস্ত্রের ব্যবসা করে এবং ওর ভাগিনা যেই পিস্তল দুটি দেখিয়েছে সেটা নাকি খেলনা পিস্তল। আমার কাছেও একমাস আগে সেই ভিডিওটি পাঠিয়েছে একজন।

এ ব্যাপারে জানতে শহিদুল ইসলাম টিটু মুঠোফোনে বলেন,আমি মাদকের বিরুদ্ধে গত ৫ আগষ্টের পর ৪৬ টি প্রতিবাদ সভা করেছি। গতকালও একটি বিরাট মাদক বিরোধী সভায় বলেছি। আমার পরিবারের কেউ যদি থাকে তাদেরও ছাড় নেই। নির্বাচন এলে এগুলো বেশী করে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি কেউ প্রমান দিতে পারবেনা। আমি ২ টি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম। আমি যে কমিটি দিয়ে এসেছি তারাই কাজ করছে। আমি থানা কমিটির দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা আসেন এবং দেখেন। অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন।

 


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর