নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজুর রহমান লিমন (৩৯)কে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন এতিমখানা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার লিমন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার নুরবাগ এলাকার আব্দুল করিম তোতা মিয়ার ছেলে। তিনি কুতুবপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা লিংকনের ভাই বলে জানা গেছে।
র্যাব-১০ জানায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ব্যবসা করার সুবাদে লিমনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে লিমন ও তার সহযোগী মেহেদী হাসান রুবেল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন লোহারপুল মোড় এলাকা থেকে ব্যবসায়ীকে চাকুর মুখে মারধর করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় লিমন ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে গুরুতর আহত করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি খালি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ডিএমপির গেন্ডারিয়া থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গেন্ডারিয়া থানার মামলা নং-০২, তারিখ ৩ জুলাই ২০২৬।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১০ আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০-এর সিপিএসসি লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল গত ২৭ আগস্ট রাতে লালবাগের এতিমখানা মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মাহফুজুর রহমান লিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার লিমনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।