নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধ দমনে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, এক সাবেক জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে অর্থ লুট, শান্তিনগরে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড, নবীগঞ্জে গণপিটুনিতে প্রাণহানি এবং এনায়েতনগরে ছিনতাইকারীদের হামলায় এক হোসিয়ারি শ্রমিকের মৃত্যু। এছাড়া মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বন্দর থানায় মোট ৩০টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলার মধ্যে মাদক, নারী নির্যাতন, দস্যুতা, চুরি, সাইবার অপরাধ এবং সড়ক পরিবহন আইন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছিল। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০৫ পিস ইয়াবা, ১৬ কেজি গাঁজা ও ১৬ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ জন মাদক কারবারিসহ ৫২ জনের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে মে মাসে থানায় ২৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, দস্যুতা, চুরি, মাদক এবং মারামারির অভিযোগ রয়েছে। ওই মাসে ১৪ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার ২৪০ পিস ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন এবং ফেন্সিডিল।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়লেও অপরাধের প্রবণতা কমছে না। তাদের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তৎপরতা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত অভিযান, টহল কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।