নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একাধিক হত্যা ও সহিংসতা মামলার আসামি এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ। জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা ও একাধিক নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু মামলা থাকার পরও তিনি বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বিল্লাল হোসেন ও তার ক্যাডার বাহিনী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর তাণ্ডব চালায়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, ফতুল্লা থানাসহ সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন এবং সন্ধ্যার পর নিজের মালিকানাধীন অটোরিকশা গ্যারেজে গিয়ে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন।
আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর এমন ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফতুল্লার বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও বিল্লালের ক্ষেত্রে পুলিশ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ চাইলেই তাকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে তা না করে ‘পলাতক’ বলে অজুহাত দেওয়া কেবলি হাস্যকর।
এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারণেই আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।