দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাট এলাকায় ‘ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ভোলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ করতে ইতোমধ্যে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সার্ভিসটি শুরুর পর থেকে যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। জনগণের এই ইতিবাচক সাড়া বিবেচনায় নিয়ে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো, সেবার মান উন্নয়ন, সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে।
তিনি আরও জানান, ভোলাকে স্থায়ীভাবে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্নতা স্থায়ীভাবে দূর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগোচ্ছে।
ঢাকার চক্রাকার নৌরুট ও ওয়াটার বাস সার্ভিস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব সেবা আরও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নৌযান চলাচল, আরামদায়ক পরিবেশ এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
সড়ক মেরামত ও অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি নিরাপদ ও জনবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ) শেখ মো. নাসিমসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত ও সহজ করার লক্ষ্যে গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি নিয়মিত উভয় প্রান্ত থেকে যাতায়াত করছে। প্রতিটি যাত্রায় আনুমানিক আট ঘণ্টা সময় লাগছে।