বিয়ের মাত্র তিন মাস ১৩ দিনের মাথায় মনিজা রহমান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আফরা খানকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গণ। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় আদালত চত্বরের সামনে নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনদের কান্না ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে পুরো সিএমএম কোর্ট এলাকা থমথমে হয়ে ওঠে।
গত ২০ আগস্ট ঢাকার ৪৭ নং ওয়ার্ডের ৪০/৯৩, ডিআইটি প্লট এলাকায় আফরা খানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আফরার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘটনার দিন তার স্বামী ও শ্বশুরালয়ের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহত আফরার স্বামী রাহাত হোসেন, শাশুড়ি সোনিয়া ইসলাম, শ্বশুর মোহাম্মদ লিটন বেপারী এবং ভাসুর মোঃ সাহীদ হোসেনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত আফরার মা। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে ওরা বাঁচতে দিল না। বিয়ের এত অল্প সময়ের মধ্যে কী এমন অপরাধ করেছিল যে তাকে প্রাণ দিতে হলো? আমি আমার মেয়ে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ প্রতিটি আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই। কোনো বিচারকের কাছে যেন এই ঘাতকরা পার না পায়।
আফরার ভাই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বোনকে হত্যা করে আসামিরা এখন মামলা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আমাদের জোর দাবি, অবিলম্বে পলাতক ও চিহ্নিত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক।
আফরার বোন বলেন, “আফরা শুধু আমার বোন ছিল না, সে একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ছিল। তার এই মর্মান্তিক পরিণতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা কোনো অজুহাত চাই না, ঘাতকদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, মামলা দায়ের হলেও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব রয়েছে। অবিলম্বে মামলার সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।