নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগে থানা বিএনপির দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা রুহুল আমিন শিকদার ও আনিছুর রহমানের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিতে মারাত্মক উত্তাপ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এটি নিছক কোনো আচমকা সংঘর্ষ নাকি দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কোনো নেপথ্য ‘মাস্টারমাইন্ড’এর পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত, তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র রহস্য ও নানা প্রশ্ন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযুক্ত বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোহন ও আলতাফের নেতৃত্বে হামলাকারীরা আনিছুর রহমানকে লাঞ্ছিত করতে শুরু করলে পাশে থাকা রুহুল আমিন শিকদার প্রতিবাদ জানান। তখন হামলাকারীরা রুহুল আমিনের ওপর চড়াও হয় এবং আনিছুর রহমান সরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরবর্তীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনার পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত মোহনের বাড়িতে চড়াও হলে থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও হাজী তৈয়াবুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগে নতুন করে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। মূল হামলার শিকার আনিছুর রহমানের নাম লিখিত অভিযোগে না রেখে, উল্টো ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ভুক্তভোগী রুহুল আমিন শিকদার এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে যাওয়া রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কেন মূল ভুক্তভোগীকে বাদ দিয়ে মধ্যস্থতাকারী নেতাদের অভিযুক্ত করা হলো, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে পর্দার আড়াল থেকে প্রতিপক্ষকে দমনে কলকাঠি নাড়ছেন এক প্রভাবশালী নেতা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একই কৌশলে ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে পরবর্তীতে ‘উদ্ধারকর্তা’ সেজে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
হামলার ঠিক আগমুহূর্তে অভিযুক্ত মোহন কার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন, তা তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করছেন দলের সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার পেছনে থাকা তৃতীয় পক্ষের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কোন্দল মেটাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপির নীতি নির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।