শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
বকশীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের উদ্বোধন, দশআনী নদীতে হাজারো দর্শকের ঢল জলাবদ্ধতায় অচল তক্কারমাঠ-পিলকুনী সড়ক, জনপ্রতিনিধিদের নীরবতায় জনদুর্ভোগ সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্ন এলাকা সাইনবোর্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ দায়িত্বশীল পুলিশিংয়ের স্বীকৃতি, নারায়ণগঞ্জে সম্মাননা পেলেন একাধিক কর্মকর্তা জনি হত্যা: পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আদালতপাড়ায় মানববন্ধন অনলাইন ট্রেডিংয়ের নামে ১১ লাখ টাকা প্রতারণা: গ্রেপ্তার ২ নেত্রকোণায় শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানী ও যৌন হয়রানী’র অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফতুল্লায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় রাসেল গ্রেপ্তার ফতুল্লার বক্তাবলীতে হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে” পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রশ্ন: অর্থনীতি কি ঋণনির্ভর চাপের নতুন বাস্তবতায়?

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ১৫৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

কবি আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু:

২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ঘিরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাজেটকে সরকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করলেও সমালোচকরা এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো এবং ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

 

কবি ও সমাজ পর্যবেক্ষক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলুর এক বিশ্লেষণধর্মী মতামতে বলা হয়েছে, এই বাজেট সংখ্যাগতভাবে বড় হলেও এর ভিত্তি মূলত ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

 

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির গতি সীমিত হলেও খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জ্বালানি ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

 

লেখকের মতে, বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজস্ব আয়ের তুলনায় উচ্চ ব্যয় কাঠামো। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র ও বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে অর্থনীতিকে ঋণচক্রের ঝুঁকির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এতে বর্তমান উন্নয়ন ব্যয়ের বোঝা পরবর্তী প্রজন্মের ওপর স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

 

কৃষি খাত নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষক আর্থিক চাপে রয়েছেন। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়ছে।

 

শ্রমবাজার নিয়েও প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, শিল্প ও সেবা খাতের শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় সেই প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

 

শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাত নিয়েও লেখক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও সংস্কারের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আস্থার ঘাটতির কারণে ব্যাংকিং খাত অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে।

 

তবে বাজেট নিয়ে সরকারি অবস্থান ভিন্ন। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বড় অর্থনীতির জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এ ধরনের সম্প্রসারণ অপরিহার্য।

 

তবে সমালোচকদের ভাষ্য—কেবল বাজেটের আকার নয়, বরং ব্যয়ের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বাস্তব ফলাফলই সফলতার প্রকৃত মানদণ্ড।

 

প্রতিক্রিয়ায় কবি মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, “উন্নয়নের পরিসংখ্যান যত বড়ই হোক, মানুষের জীবনমানের উন্নতি না ঘটলে সেই উন্নয়ন টেকসই হয় না। বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সাধারণ মানুষের জীবনে তার বাস্তব প্রভাবের ভিত্তিতে।”

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বাস্তব অগ্রগতি এই বিতর্কের উত্তর নির্ধারণ করবে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর