ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার ছদ্মবেশ ধারণ করে সাধারণ নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কাউছার উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চার বছর আগে বিয়ের আশ্বাসে ঘটিয়েছিলেন সংসার, এরপর অন্য নারীর সাথে পালিয়ে গিয়ে এখন দিচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকি! নিরুপায় ও নিঃস্ব হয়ে বিচার এবং নিরাপত্তার আকুতি জানিয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী নারী।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কাউছার উদ্দিন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার পূর্ব লক্ষীদিয়া গ্রামের (৮নং ওয়ার্ড, ৫নং চরঈশ্বর ইউপি) মোঃ খবির উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে সে ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান করছে। অপরদিকে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী মোসাঃ শাহীদা বেগম (৪০) বরগুনা জেলার আমতলী থানার পশ্চিম কৃষ্ণপুর গ্রামের মোজাম্মেল মাষ্টারের মেয়ে, যিনি বর্তমানে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে একটি লঞ্চ ভ্রমণকালে শাহীদা বেগমের সাথে পরিচয় হয় কাউছার উদ্দিনের। পরিচয়ের সূত্রে কবিরাজি ব্যবসার আড়ালে থাকা কাউছার নিজের প্রতারণার ফাঁদ বিস্তার করে। বিভিন্ন কৌশল ও প্রলোভন দেখিয়ে একপর্যায়ে এক হুজুরের মাধ্যমে শাহীদাকে বিয়ে করে সে। এরপর ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা সংসার শুরু করেন।
দীর্ঘদিন সংসার করার পর গত ৩ মাস আগে হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্য এক নারীকে নিয়ে চম্পট দেয় কাউছার। এরপর থেকে শাহীদা বেগমের সাথে যাবতীয় যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সে। স্বামী হারিয়ে দিশেহারা শাহীদা বারবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৮৩৮২৫২৯৪৩) যোগাযোগের চেষ্টা করলে কাউছার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়।
ভুক্তভোগী জানতে পারেন, কাউছার এখন অন্য এক অজ্ঞাত নারীকে নিয়ে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় নতুন করে আস্তানা গেড়েছে।
আইনের আশ্রয় নিয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, কাউছার মূলত কবিরাজের ছদ্মবেশে এক ভয়ংকর নারীলোভী ও প্রতারক। সে সহজ-সরল নারীদের ফুসলিয়ে নিঃস্ব করাই তার পেশা।
ভুক্তভোগী শাহীদা বেগম থানায় অভিযোগ দায়েরের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে আকুল কণ্ঠে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, আমি তো তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। ভেবেছিলাম সে একজন সাধারণ মানুষ, কবিরাজি করে সংসার চালাবে, আমরা সুখে-শান্তিতে থাকব। কিন্তু আমি জানতাম না যে কবিরাজের পোশাকের আড়ালে সে একটা দানব ও প্রতারক! ধর্মের দোহাই দিয়ে, হুজুর ডেকে আমাকে বিয়ে করে সংসার করল, আর আজ আমাকে নিঃস্ব করে অন্য আরেকটা মেয়ের জীবন ধ্বংস করতে পালিয়ে গেল!
তিনটা মাস ধরে আমি না খেয়ে, কেঁদে কেঁদে দিন পার করছি। যখনই তাকে ফোন দিয়ে একটু আশ্রয়ের আকুতি জানাই, তখনই সে আমাকে খুন করে ফেলার হুমকি দেয়! বলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে শেষ করে দেব। আমি আজ সমাজের কাছে, পুলিশের কাছে বিচার চাই। আমার মতো আর কোনো নারীর জীবন যেন এই প্রতারক কাউছারের হাতে ছারখার না হয়। আমি আমার অধিকার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই!