নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত সাহেব আলী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রনিকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছন এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনিতে তার বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেফতার রনির (৩২) বিরুদ্ধে গত ১২ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে সাহেব আলীকে (৪০) গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসআরবির ভাষ্য, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রনিকে শনাক্ত করা হয়।
এসআরবি-১১-এর দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ দল ভেদরগঞ্জের শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনিকে গ্রেফতার করে। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সাড়ে পাঁচটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সাহেব আলী। এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পাশের একটি খালে পড়ে যান। হামলাকারীরা তখনও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাহেব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি সাব্বিরকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেফতার রনির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।