সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকটে যখন শিল্পকারখানার চাকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম ঠিক তখন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চলছে সরকারি সম্পদ গ্যাস চুরির মহোৎসব। ফতুল্লার রুসেন হাউজিং সোসাইটি এলাকায় রাতের আঁধারে একের পর এক বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রভাবশালীদের ছায়াতলে চলা এই অপকর্ম চোখের সামনে ঘটলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফতুল্লার যমুনা গেট সংলগ্ন রুসেন হাউজিং এলাকার শাহজাহান মিয়া তার চারতলা বিশিষ্ট ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে সরকারি গ্যাস চুরি করে ব্যবহার করছেন। তার নিজ বাড়িতে সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত ৪ টি সংযোগ থাকলেও তিনি আরও অতিরিক্ত ৪টি চুলা ব্যবহার করছেন অবৈধভাবে। অবৈধ সুবিধাভোগী এই ব্যক্তি এখানেই ক্ষান্ত হননি সম্প্রতি তার মেয়ের মালিকানাধীন সংলগ্ন একটি সাততলা ভবনেও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ টেনে দিয়েছেন।
শুধু সাত তলায় নয় রুসেন হাউজিংয়ে যে ক’টি বিল্ডিং রয়েছে তার ৯০ ভাগ বিল্ডিংগুলো রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। তিতাসের অর্থলোভী একাধিক কর্মকর্তা তার চিহিৃত দালালদের মাধ্যমে এসব বিল্ডিংগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসে কোটি টাকার উপর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যা সরকারের পাশাপাশি দেশের সাধারন মানুষগুলোও ভুক্তভোগী হচ্ছে। অপরদিকে বৈধভাবে গ্যাস সংযোগকারীরা নিয়মিত গ্যাসের চাপ পাচ্ছেনা অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গভীর রাতে মূল লাইন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব সংযোগ দিচ্ছে।
একদিকে বৈধ গ্রাহকেরা নিয়মিত বিল দিয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে তাদের উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চোরেরা পাড়ায় পাড়ায় নির্বিঘ্নে চুরির সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছে।
একাধিকবার গ্যাস চুরির বিষয়টি নজরে আনা হলেও স্থানীয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট কায়েমপুরের তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস টি এন্ড ডি পিএলসি (জোবিআ- ফতুল্লা-কুতুবপুর ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো.আতিকুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমরা সবসময় অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো বিচ্ছিন অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু কিছু খারাপ প্রকৃতির লোকজন অভিযানের পরবর্তী সময়ে পুনরায় পুন:সংযোগ দিয়ে নিচ্ছে। অবৈধ সংযোগ সর্ম্পকে আমাদেরকে অবগত করবেন আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাজাহানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার মোট লাইন ৪টা কিন্তু আমি ৩টা চালাচ্ছি আরেকটা এঙ্ট্রা রয়েছে। আপনি বলছেন ৪ টা অথচ তালিকায় রয়েছে ৮টা এমন প্রশ্নের জবাব তিনি দিতে পারেনি। আপনার মেয়ের ৭ তলা ভবনে আপনার সংযোগ থেকে দেয়া হলো কিভাবে এমন প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন,আমার বাড়ি থেকে কোন সংযোগ দেয়া হয়নি।
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।