নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লার পিলকুনি জোড়া মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে ছাড়িয়ে নিতে নৌবাহিনীর কমান্ডার পরিচয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলমকে ফোন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর ০১৭৬৯৭০২৬৪০ নম্বর থেকে ‘তারেক’ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে নৌবাহিনীর কমান্ডার পরিচয় দিয়ে ওসিকে ফোন করেন। ফোনে তিনি মোক্তার হোসেনকে কেনো গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এবং তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট না থাকলে ও তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন করেন বলে জানান ওসি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত মোক্তার হোসেন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সদস্য। শনিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে পিলকুনি জোড়া মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই নৌবাহিনীর কমান্ডার পরিচয় দিয়ে একজন আমার ফোনে যোগাযোগ করেন এবং মোক্তারকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওয়ারেন্ট ছাড়া কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এসব জানতে চান।”
এদিকে, বিষয়টি যাচাই করতে ০১৭৬৯৭০২৬৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি কেন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করেছিলেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে “ধন্যবাদ” বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রেপ্তারকৃত মোক্তার হোসেনকে ছাড়িয়ে নিতে কি সত্যিই নৌবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো পরিচয় ও উদ্দেশ্য-তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে করা ফোনকলটির সত্যতা ও ফোনদাতার পরিচয় যাচাই করা হলে বিষয়টির প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
গ্রেফতারকৃত মোক্তার হোসেন ফতুল্লার পিলকুনি জোড়া মসজিদ মোল্লা বাড়ীর আক্কাস মোল্লার পুত্র।