সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে নেওয়ার সময় অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজিসহ মোট ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে রয়েছেন তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার।
নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন ও পদোন্নতি লাভ করেন। পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা, নৌপুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) ফরিদা ইয়াসমিন। নথিতে তাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে নেওয়ার সময় অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তার দাবি, পদোন্নতির সময় ঘনিয়ে আসায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে।
অন্যদিকে, ফরিদা ইয়াসমিন ও জেসমিন বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাধ্যতামূলক অবসরের প্রস্তাবিত তালিকায় আরও রয়েছেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা, সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের নামও রয়েছে।
সরকারি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।