নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভগ্নিপতির বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগে এক তরুণী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিদের আদালতে প্রেরণ করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— তানিয়া আক্তার (২২) ও তার কথিত প্রেমিক মো. মেহেদী (২৬) ফতুল্লার শিয়াচর তক্কারমাঠ এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে। এর মধ্যে তানিয়া আক্তার মামলার বাদী মো. ফাহাদ এর আপন শ্যালিকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানিয়া আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে বাদী ফাহাদের বাসার একটি কক্ষে বসবাস করতেন। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে পরকীয়া প্রেমিক মেহেদীর সঙ্গে তানিয়ার পরিচয় ও পরবর্তীতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের একাধিকবার সতর্ক করলেও তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।
গত ৮ জুন দুপুরে বাসার অন্য সদস্যরা যখন বাইরে ছিলেন, তখন ঘরের চাবি নিজের কাছে থাকার সুবাদে তানিয়া ও মেহেদী পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটায়। তারা ঘরের ওয়ারড্রব খুলে নগদ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সব মিলিয়ে ক্ষতি ও চুরির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা।
ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ তানিয়া ও মেহেদীকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। অবশেষে গত ১৬ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার শিয়াচর তক্কারমাঠ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় এই দুজনকে আটক করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়: আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা চুরির বিষয়টি স্বীকার করলেও চোরাই মালামাল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে অভিযুক্ত দুজনকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহবুব আলম জানায়, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফাহাদ বাদী হয়ে একটি চুরির মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজু হওয়ার পর আটককৃত দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চুরিকৃত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা চলছে।