নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন জুড়ে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ফিটিংবাজিসহ নানা অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে। দলীয় পদের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হয়েছে বিপুল পরিমানে অবৈধ সম্পদের মালিক, গড়ে তুলেছেন গাড়ি-বাড়ি এবং টাকার পাহাড়।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম টিটু একা নন, তার এই অপরাধ সাম্রাজ্যের সহযোগী হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন তার আপন দুই ছোট ভাই স্বপন ও তপন এবং ভাতিজা রাজু। তারা প্রত্যেকেই এলাকাভিত্তিক নিজ নিজ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন।
শুধু দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুর অপরাধ জগতও নাকি বর্তমানে টিটুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মীরুর ফেলে যাওয়া ক্যাবল/ইন্টারনেট ব্যবসা, জমি ও বাড়ি দখলের রাজত্ব এখন এককভাবে পরিচালনা করছেন শহিদুল ইসলাম টিটু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবপুরের একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ফতুল্লার কুতুবপুর ও আশপাশ এলাকাতে একাধিক ঝটিকা মিছিল হয়েছিল আওয়ামীলীগের ব্যানারে। উক্ত মিছিলের ইন্ধনদাতা হিসেবে মীর হোসেন মীরুর নামটি উচ্চারিত হলেও সেই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও অদৃশ্য কারনে মীরুর কোন নাম আসেনি। এসেছে নিরীহ কিছু সাধারন মানুষের। সর্বশেষ ওয়াসা কলোনীর পাশে যে ঝটিকা মিছিলটি হয়েছিল সেখানে মিছিলে মীরুর নামটি উচ্চারিত হলেও মামলায় অর্ন্তভুক্ত হয়নি তার নাম।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানান,বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে নৌকার চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর ছায়াতলে থেকে বিএনপির ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে শহিদুল ইসলাম টিটু। ঠিক সেইভাবেই মীর হোসেন মীরুর অপরাধ সাম্রাজ্য দেখভালের সুবাদে টিটুর ছায়াতলে থেকে বর্তমানে কুতুবপুর ও আশপাশ এলাকাতে মীরু মিছিল করাচ্ছে এলাকায় অবস্থারত তার অনুসারীদের দিয়ে।
তারা আরও জানান,চলতি বছরের কোরবানী ঈদে পাগলা তালতলা এলাকায় যে পশু হাটটি হয়েছিল সেটাও নাকি মীর হোসেন মীরুর অর্থ্যায়নে হয়েছে যা পরিচালনা হয়েছে শহিদুল ইসলাম টিটুর মাধ্যমে। হাট শেষে হাটের লভ্যাংশের একটি অংশও তুলে দেয়া হয়েছে মীরুর হাতে।
এছাড়া, কুতুবপুর এলাকার চিহ্নিত মাদকের ডিলার আক্তার ও মিথুনের মাদক নেটওয়ার্ক সরাসরি টিটুর ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ওয়ার্ড যুবদল নেতা মাকসুদুল ইসলাম লিখনের মাদক সাম্রাজ্যও নাকি চলছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির ছত্রছায়ায়।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এসব অপকর্ম, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে থানা বিএনপি সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু’র ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আপনারা সাংবাদিক মানুষ আপনারা তদন্ত করে দেখুন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো।
তিনি বলেন,যারা মাদকের টাকা খায় তারা তো জারজ সন্তান। আসলে সামনে কমিটি দিবে এ কারনে কিছু খারাপ মানুষ উঠে-পড়ে লেগেছে। তাছাড়া আমি কিংবা আপনি কেউ কিন্তু ভাইস্যা আসি নাই। আমার এলাকারই সন্তান। মীরুর সাথে যোগসাজেস সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ওর সাথে যোগসাজেসের কোন প্রশ্নই আসেনা।
তিনি আরও বলেন,আমি কিংবা আমার পরিবারের সদস্যরা যদি খারাপ কাজে যুক্ত থাকি থাকি তাহলে গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে তারা খুজে বের করুক আমরা কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত কিনা। আপনি সাংবাদিক মানুষ আপনার দ্বায়িত্ব হলো কোন তথ্য আসলে তার পুরোটা ভালভাবে জেনে-শুনে নিউজ করা। তবে আপনি এখানে আসবেন একসাথে চা খাবো।