বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়নের বান্দ্রা বাজার-উল্টাখালী সড়কের প্রায় ৭-৮ মিটার অংশ গাছসহ পাশের মাছের ঘেরে ধসে পড়েছে। সড়কের আরও প্রায় ১০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো সময় ওই অংশও ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক শ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশ ঘেঁষে মাছের ঘের থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা ছিল। প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে বান্দ্রা বাজার থেকে উল্টাখালী পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণের সময় বান্দ্রা জলমহলের পাশ দিয়ে পাইলিং করার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য ঘেরের পানি সেচে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে পানি সেচে না দেওয়ায় পাইলিং ছাড়াই সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সড়কের পাশের মাটি নরম হয়ে যায়। একপর্যায়ে সড়কের প্রায় ৭-৮ মিটার অংশ গাছসহ পাশের মাছের ঘেরে ধসে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের আরও প্রায় ১০০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশ গাছসহ মাছের ঘেরের ভেতরে ধসে পড়েছে। ধসে যাওয়া অংশের পাশে সড়কে বেশ কয়েকটি ফাটল রয়েছে। ফলে ওই পথে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সফিজ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, “মাছের ঘেরের কারণে সড়কটি ধসে পড়ছে। আমরা ওই মাছের ঘেরের ইজারা বাতিলের দাবি জানাই।”
স্থানীয় ভুক্তভোগী মো. ইউনুছ, সোহাগসহ কয়েকজন বলেন, “ঘেরের কারণে সড়ক ধসে পড়েছে। কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে যেকোনো সময় আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে।”
তবে মাছের ঘেরের ইজারাদার মো. আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তিন বছরের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে সরকারের কাছ থেকে ঘেরটি ইজারা নিয়েছি। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় সড়কের পাশের গাছসহ একাংশ আমার ঘেরের মধ্যে ধসে পড়েছে। আমি বালি ও খোয়া দিয়ে সড়কটি মেরামত করে দেব।”
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “সড়কের একাংশ ধসে পড়ার কথা শুনেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
