বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি গ্রামের জন্মগত প্রতিবন্ধী যুবক মো. সজীবের জীবনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ছোনাউঠা হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থা। মানবিক এই সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, সজীব যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন তাঁর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের ব্যয় বহন করবে তারা। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, কালীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলতা হাওলাদারের ছেলে মো. সজীব জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। শৈশব থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও নিজের কাজকর্ম করতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলেকে আগলে রেখেছেন। কিন্তু বয়সের ভার, শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে সজীবের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।

Oplus_131072
এমন পরিস্থিতির খবর জানতে পেরে ছোনাউঠা হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ সজীবের বাড়িতে যান। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ঘোষণা দেন, সজীবের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতি মাসে তাঁর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের ব্যয় বহন করবে সংগঠনটি।
সংগঠনের এ মানবিক ঘোষণায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সজীবের বাবা-মা। তাঁরা বলেন, “আমাদের মৃত্যুর পর ছেলেটার কী হবে—এই দুশ্চিন্তায় প্রতিদিন কষ্ট পেতাম। আজ এই সংগঠন আমাদের সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করেছে। আমরা তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের এই মানবিক কাজের উত্তম প্রতিদান দেন।”
সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ছোনাউঠা হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা, সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা আক্তার রজনী, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব, স্বপ্নছোঁয়া স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম এবং উপদেষ্টা তানজিল শিকদার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, একজন অসহায় মানুষের আজীবন ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। ছোনাউঠা হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার এই সিদ্ধান্ত সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করেন।