বরগুনার আমতলীতে গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যা মামলার বিচার বাধাগ্রস্ত এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিহত রিপন কাজী (৩৫) আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান ভূট্টা কাজীর ছেলে এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামে বেড়াতে গেলে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ওই হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি রিফাত কাজীর মা ফেরদৌসী বেগম গত ২১ জুলাই আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচটি গরু, হাঁস-মুরগি এবং ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় হত্যা মামলার বাদীপক্ষের সাক্ষী ও স্বজনসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী রাজীব কাজী, সাক্ষী মো. ছাব্বির কাজী, মো. মাহবুব কাজী, পান্নু ভূঁইয়া, হেলাল তালুকদার, মো. কবির মল্লিক, মো. ইমরান মল্লিক ও নমজা বেগম।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, রিপনের বাবা মিজানুর রহমান ভূট্টা কাজী একাধিক বিয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। জমিজমা বিক্রি করে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে রিপনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় মিজানুর রহমান ভূট্টা কাজী ছয় নম্বর আসামি।
নিহতের ছোট ভাই ছাব্বির কাজী বলেন, “হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার কথাও প্রচার করছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের মা আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। এখন তারা মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। আমি এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
আমতলী উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “হত্যা মামলার বাদীপক্ষকে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “রিপন হত্যা মামলায় সোহাগ কাজী ও রাসেল কাজী নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “আদালত থেকে মামলার নথি এখনো থানায় আসেনি। নথি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।