বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম

৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বাজেট পাস, তাও কুতুবপুরবাসীর দিন কাটছে হাঁটু পানিতে

রাহাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ / ৮৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

ঋতু বদলায়, কিন্তু বদলায় না নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নূরবাগ-শহীদনগর সড়কের চিত্র। বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুম—বছরের ১২ মাসই এই সড়কটি থৈ থৈ পানির নিচে তলিয়ে থাকে। সদর উপজেলার নূরবাগ থেকে আদর্শনগর, শহীদনগর এবং মাতুয়াইল সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক ‘স্থায়ী অভিশাপ’। কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকার জনজীবন এখন স্থবির।

নৌকা যখন একমাত্র ভরসা: সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ জায়গা হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত এই পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ হাজারো মানুষ। জলাবদ্ধতা এতটাই তীব্র যে, কোনো কোনো অংশে যাতায়াতের জন্য এখন নৌকাই একমাত্র ভরসা।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অবরুদ্ধ, ভাড়া ৪ গুণ: সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগীরা। রাস্তা ভাঙা এবং পানির নিচে থাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি গাড়ি এই এলাকায় ঢুকতে চায় না। ফলে রোগীকে কাঁধে বা খাটিয়ায় করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়। রিকশা বা ইজিবাইক চালকরা এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চালাতে চান না; আর যারা যান, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভাড়া দাবি করেন।

বাজেট পাস হলেও কাটছে না ধোঁয়াশা: জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি (LGED) থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ৩ কোটি ৮৮ লক্ষ ১১ হাজার ১৯০ টাকার একটি পাকা ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের খবর চাউর হলেও মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মনে ক্ষোভ ও সংশয় দুই-ই বাড়ছে।

যা বলছেন দায়িত্বশীলরা: শহীদনগর এলাকার সমাজ উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আজম খান জানান, “মানুষ এখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। আমরা শুনেছি ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের বাজেট হয়েছে। এখন দ্রুত কাজ শুরু করলেই বাঁচি।”

কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, “বাজেট পাস হয়েছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে। তবে শুধু ড্রেন-স্লাব নয়, এই সড়কটি টেকসই করতে হলে দ্রুত পাকা ঢালাই করা জরুরি। আমি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।”

কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। আমরাও অতি দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ মাঠে শুরু করার অপেক্ষায় আছি।”

কাগজে-কলমে উন্নয়ন ও বাজেট পাসের এই খবর কতদিনে বাস্তবে রূপ নেয় এবং কুতুবপুরবাসীর এই ‘বারোমাসি’ কষ্ট দূর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর