নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ড্রেজার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি গুলি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের সময় গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় দুই পক্ষই পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফতুল্লার মধ্য ও উত্তর নরসিংপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হোসাইন ও রুবেল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃষ্টি আক্তারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার দেবর রুবেলের সঙ্গে ড্রেজার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হোসাইনের বিরোধ চলছিল। অভিযোগে হোসাইন (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বিবাদীরা পিস্তল, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, ছোরা, চাকু, লোহার রড ও কাঠের ডাসাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে। পরে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় ঘরের থাই গ্লাস, ফ্রিজ, বেসিন, ছয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া আলমারি খুলে জমি বায়না বাবদ রাখা ১৯ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল পৃথক অভিযোগে উল্লেখ করেন, মো. রুবেল (৩৫), মোল্লা বাপ্পী (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে উত্তর নরসিংপুর সামসুল আলমের মোড়সংলগ্ন হাজী স্পিনিং মিলের বিপরীত পাশে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলীয় কার্যালয়ে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা কার্যালয়ের শাটারে আঘাত করে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে কার্যালয়ের আশপাশ থেকে গুলির খোসা পাওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় অফিসের বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আনুমানিক ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
শাহজালালের অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিবাদীরা পুনরায় কার্যালয়ে এলে তাকে ও কার্যালয়ের লোকজনকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ড্রেজার ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। শনিবারের ঘটনার সময় উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে রামদা, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে নরসিংপুর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, উভয়পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুই পক্ষের অভিযোগই বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগে উত্থাপিত গুলি, ভাঙচুর, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।