বরগুনার আমতলী উপজেলার ছোনাউঠা ও নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছে হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থা। দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণাধীন একটি কাঠের ব্রিজে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্রিজ নির্মাণকাজে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ অর্থ প্রদান করা হয়। হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা মো. জমির উদ্দিন হাওলাদার কাঠের ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০ হাজার টাকা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা আক্তার রজনীর হাতে তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা সদস্য মো. নিজাম হাওলাদার, মো. আবু বক্কর গাজী, মো. খোকন চৌকিদার, মো. আসলাম মৃধা, জাহাঙ্গীর সিকদার, মো. রবিউল সিকদারসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সংগঠনের অর্থ ও সহ-সভাপতি মো. রাজিব হাওলাদার।
স্থানীয়রা জানান, ছোনাউঠা ও নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কাঠের ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু রাসেল হাওলাদার বলেন, “গ্রামীণ জনপদের মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর করা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থার মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও সামাজিক উন্নয়নে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, কাঠের ব্রিজ নির্মাণে যারা শ্রম, অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে হাওলাদার সমাজ কল্যাণ সংস্থা।
স্থানীয়রা সংগঠনটির এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ছোনাউঠা ও নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।