ছোট্ট একটি উদ্যোগ থেকে শুরু, লক্ষ্য ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দুই বছর পূর্ণ করেছে বরগুনার আমতলীর স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন ‘স্বপ্নছোঁয়া’। মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছে সংগঠনটি।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ক্ষুদ্র পরিসরে কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘স্বপ্নছোঁয়া’। শুরুটা ছিল সীমিত পরিসরে, ছিল নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ। তবে মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় আর স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিকতায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংগঠনটির কার্যক্রমের পরিধি।
দুই বছরের পথচলায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সংগঠনটি। দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, শিশু সুরক্ষা এবং মাদক ও বাল্যবিবাহবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে ‘স্বপ্নছোঁয়া’।

Oplus_131072
কখনো অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে প্রয়োজনীয় সহায়তা, কখনো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা উপকরণ নিয়ে। আবার কখনো সবুজ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে হাতে তুলে নিয়েছে গাছের চারা। এভাবেই ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “স্বপ্নছোঁয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোট পরিসরে। তখন আমাদের সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ আমরা মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। এই পথচলা কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি সব স্বেচ্ছাসেবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
তিনি আরও বলেন, “স্বপ্নছোঁয়া সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতেও অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের সম্পৃক্ত করে কাজ করে যাবে।”
দুই বছর পূর্তিতে সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে অতীতের কাজকে স্মরণ করে সামনে আরও বড় পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
‘স্বপ্নছোঁয়া’র দুই বছরের এই পথচলা শুধু একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক ধারাবাহিক গল্প। আগামী দিনে মানবিকতার এই পথচলা আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।