ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগে এক স্থানীয় রাজনীতিককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন উক্ত ছাত্রীকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোর রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালান। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে হাতে ২০ টাকা গুঁজে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে তা অর্থের বিনিময়ে রফা করার চেষ্টা চালান স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন রাতেই সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মেম্বার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তবে শিশুটির পরিবার অনৈতিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
পরদিন সকালে শিশুটির স্বজনেরা ঘটনার জবাব চাইতে বিদ্যালয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ মতে, প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে বাচ্চু ও ফিরোজ মেম্বারের অনুসারীরা ভুক্তভোগীর স্বজনদের ওপর হামলা চালালে শিশুটির মামা, দাদা ও দাদি আহত হন।
পরে নির্যাতনের শিকার শিশুটির দাদা বাদী হয়ে ২২ জুলাই (বুধবার) বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রজু হওয়ার পরপরই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং তাকে সহায়তাকারী সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তের দাবি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন। তার দাবি, তিনি কোনো অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত নন। বিদ্যালয়ের ‘ফিডিং কর্মসূচি’র খাবার বিতরণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বহিরাগত কিছু লোক শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে তার ওপর হামলা চালিয়েছিল।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।