বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম

অভিযানের নামে ‘বাণিজ্য’ ও হয়রানি: মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ৮৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে যখন দেশজুড়ে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। অপরাধ দমনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, আটক-বাণিজ্য এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি বন্দর থানার চারজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং খোদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে বদলি করা হলেও, মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বেপরোয়া আচরণে কোনো লাগাম টানা যায়নি। ফলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠছেন।

পুকুরপাড়ের গোপন কক্ষ: যেখানে চলে ‘দরকষাকষি’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, নূরুল ইসলাম ফাঁড়িতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজস্ব কায়দায় ‘আটক-বাণিজ্য’ শুরু করেছেন। অভিযানের নামে সন্দেহভাজন বা সাধারণ মানুষকে ধরে এনে মূল হাজতখানায় না রেখে, ফাঁড়ির ভেতরে পুকুরপাড়ের একটি পৃথক কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। স্থানীয়দের কাছে কক্ষটি এখন এক প্রকার বাণিজ্যিক কার্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে দরকষাকষি মিলে গেলে ভোর হওয়ার আগেই অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কপালে জোটে মিথ্যা মামলা।

মামলার ভয় ও অসদাচরণের অভিযোগ

সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন কোনো মামলা দায়ের হলে নিজের ইচ্ছেমতো নিরপরাধ মানুষের নাম যুক্ত করার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নূরুল ইসলামের নিত্যদিনের কৌশল।

ফাঁড়ি এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নূরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফাঁড়িতে লেনদেন ছাড়া কোনো কাজ হয় না। সাধারণ মানুষ কোনো বিষয়ে সাহায্য চাইতে গেলে উল্টো টাকার দাবি করা হয়। টাকা না দিলে সাধারণ ঘটনাকেও জটিল রূপ দেওয়া হয়।

অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, অকারণেই সাধারণ মানুষকে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয়। এছাড়া নূরুল ইসলামের রূঢ় ও অভব্য আচরণে সাধারণ মানুষ ফাঁড়িতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।

তদন্তের আশ্বাস জেলা পুলিশ সুপারের

বন্দরে একের পর এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে জেলা পুলিশ সুপার ও বন্দর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশ সুপার জানান, মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর