বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম

রণক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ আদালত: পুলিশের হেফাজত থেকে খুনি শরিফকে ছিনিয়ে গণপিটুনি!

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ১১১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে আজ এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফতুল্লার চাঞ্চল্যকর ডিশ ব্যবসায়ী নাসির হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শরিফকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনরা। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

যেভাবে ঘটল সেই রণক্ষেত্র

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি শরিফকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে শরিফকে যখন এজলাসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া নিহতের পরিবার ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী “খুনির ফাঁসি চাই” স্লোগানে ফেটে পড়ে।

মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৈরি করা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে শরিফের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে।

পুলিশের লাঠিচার্জ ও ৫ দিনের রিমান্ড

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালত প্রাঙ্গণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে ব্যাপক ধস্তাধস্তির পর পুলিশ আসামিকে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে দ্রুত আদালত কক্ষের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামি শরিফের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের কার্যক্রম শেষে আসামিকে পুনরায় কারাগারে নেওয়ার সময়ও বাইরে অপেক্ষমাণ জনতা তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ফতুল্লার চানমারী মাউরাপট্টি এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নৃশংসতার শিকার হন ডিশ ব্যবসায়ী নাসির। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে আসামি শরিফ ঠান্ডা মাথায় ধারালো ছুরি দিয়ে নাসিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিরকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছোরা উদ্ধার করেছিল। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো ফতুল্লা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নেপথ্যের খোঁজে পুলিশ

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ৫ দিনের এই রিমান্ডে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নাসির হত্যার পেছনে অন্য কোনো কুশীলব বা মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে কি না, কিংবা এটি কোনো সুদূরপ্রসারী পূর্বপরিকল্পনার অংশ কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখাই এখন তদন্তকারী কর্মকর্তার মূল লক্ষ্য।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর