নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মালিকের অগোচরে রাতের আঁধারে ১৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি এক্সকাভেটর (বেকু) কেটে খণ্ড-বিখণ্ড করে চুরি করে বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন খন্দকার শিপনসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. সাইদুল ইসলাম। অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সাইদুল ইসলাম (৩৮) ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার মো. অলিউল্লাহ (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার নবীনগর ঘাট এলাকায় ভাড়ায় এক্সকাভেটর (বেকু) পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের বেকুটি বক্তাবলী ফেরিঘাট সংলগ্ন জাকির মিয়ার ব্রিকফিল্ডে রাখা ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আব্দুল মোতালেব হোসেন (৫৫), শাহীন আহমেদ (৪২), শান্ত (২৮), আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সেখানে গিয়ে ভারী কাটার মেশিনের সাহায্যে বেকুটিকে কেটে একাধিক অংশে পরিণত করেন। পরে ওই খণ্ডিত অংশগুলো সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাইদুল ইসলাম।
ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে বেকুটির মূল্য এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে তার পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির কারণে অভিযুক্তরা এমন একটি ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। একটি সচল ভারী যন্ত্রকে মালিকের অনুমতি ছাড়া কেটে টুকরো করে ফেলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগে নাম থাকা বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন খন্দকার শিপনসহ অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।