২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট।
একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেও পাসের হার কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলে সব বোর্ড মিলিয়ে সর্বনিম্ন পাসের হার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল।
ফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী তার ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে তা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তবে ফলাফলের প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আগের বছরের তুলনায় মূল্যায়ন তুলনামূলক কঠোর হয়েছে।