নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হেফজখানার ১২ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় মৃদুলের বিরুদ্ধে। তবে দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ওপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ নির্যাতন। অবশেষে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার(৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের পিতা মাদ্রাসার পরিচালক সোলাইমান বিন হাফিজ মৃদুলগংদের বিরুদ্ধে চাদাঁর দাবীতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়াস্থ ‘উম্মুল কুরা নূরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা’র হেফজখানার শিক্ষক আহমাদ (১৮) গত ৩১ জুলাই রাতে এক আবাসিক ছাত্রকে বলপূর্বক বলাৎকার করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মৃদুল ও তার সহযোগী ৪-৫ জন বিষয়টি সমাধানের কথা বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে মৃদুল ও তার সঙ্গীরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা বাড়ি গিয়ে মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে। তাদের অমানসিক নির্যাতন ও হুমকি থেকে বাঁচতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে মৃদুলের কাছে ঘটনার বিষয় জানতে চান। তখন মৃদুল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, নির্যাতিত পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই টাকা চাওয়া হয়েছে।
একপর্যায়ে ঘটনাটি আরও বেগতিক দেখে কৌশল বদলে মৃদুল নিজেই নির্যাতিত পরিবারের লোকজনকে থানায় নিয়ে আসেন। তবে থানার ভেতর পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই মৃদুল উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, বিষয়টি এলাকায় মিটমাট করতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা দিতে পারে নাই দেখেই থানায় আসছে। তাদের ক্ষতি হয়েছে,তাই ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে এভাবে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকির বিষয়টি শুনে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যায়। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বলাৎকারের ঘটনায় সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষক আহমাদকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, বলাৎকারের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি, হুমকি ও নির্যাতনের পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৃদুলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি তারাই চেয়েছিল সমাধান করতে কিন্তু করেনি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ছেলেটির পরিবারকে ক্ষতিপুরন বাবদ কিছু দিতে বলা হয়েছিল। তারা দেয়নি। আর যদি তারা এ বিষয়ে সমাধান চায় তাহলে এভাবে নতুবা ওভাবে সমাধান করতে হবে। এভাবে ুনতুবা ওভাবে সমাধান এটা কি এ বিষয়ে মৃদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।