হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার স্বার্থে একটি সোনালী ব্যাংকের ভবনে অবস্থান নেন। এ সময় তাদের সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় বলে দলটির দাবি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার জন্য তারা নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের ভবনে আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
রিংগন আরও বলেন, অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে ছাত্রদলের কোনো কর্মী এতে জড়িত নয়।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।