বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
​২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম: ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন আসিফ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১৫৮৫ ফতুল্লায় আওয়ামী নেতা পিতা-পুত্রের তাফালিং,জমি দখলের অপচেষ্টা লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস দূর্গা মন্দির দখলমুক্ত করতে ডিসি বরাবর বিএসপি’র স্বারক লিপি প্রদান ফতুল্লায় র‍্যাবের অভিযান: ঝোপের ভেতর থেকে বিদেশি এয়ার রাইফেল উদ্ধার একজনকে আটকের পর মিলল গোডাউনের সন্ধান: বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার- ২ আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইকালে নারী আটক, প্রশংসিত আনসার সদস্যরা ফতুল্লায় শীর্ষ দুই নেতার ওপর হামলা: বিএনপি নেতা মোহনের পদ স্থগিত মাটি কাটার দিনমজুর থেকে কোটিপতি: মসজিদের টাকায় ফতুল্লায় বাবুল-হেনার রাজপ্রাসাদ

বিধবা নারীকে ঢাল বানিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা, প্রতিকার চেয়ে নেত্রকোনায় আদালতে মামলা

মোঃবাবুল, নেত্রকোণা / ৯২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের কদম দেওলী গ্রামে বৈধ দলিলভুক্ত মালিকানা জমি দখলের মহোৎসব ও একটি প্রভাবশালী চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বৈধ জমিতে মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির প্রকৃত মালিক রুমা আক্তার।

মামলার বিবরণ ও ভূমির ইতিহাস

আদালতে দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দেওলী মৌজার (জে.এল নং- ৪২) একটি বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে এই বিরোধের সৃষ্টি। ১৯৮২ সালের বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী উক্ত জমির প্রকৃত দখলদার ও মালিক ছিলেন মৃত সাহেরা খাতুন, যার নামে বিআরএস খতিয়ানও রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে সাহেরা খাতুন ৩৬৩০ নং দলিলমূলে ওই জমির ১২ শতাংশ জায়গা একই গ্রামের হালিম মিয়ার নিকট হস্তান্তর করেন। হালিম মিয়া আবার ২০১৮ সালে ১৪২২ নং সাফ কাওলা দলিলমূলে উক্ত ১২ শতাংশ জায়গা তাঁর মেয়ে রুমা আক্তার ও তাঁর বোনের কাছে হস্তান্তর করেন। সর্বশেষ ২০২৫ ইংরেজি সালে রুমা আক্তার ১২৩৮(Ix-I)২৪-২৫ খারিজ মূলে জমিটি নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।

দখলের পাঁয়তারা ও লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডব

অভিযোগে প্রকাশ, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনী ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে রুমা আক্তারের এই বৈধ মালিকানা জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। চক্রটি শেফালি আক্তার নামে এক বিধবা নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঝগড়াবিবাদসহ বিভিন্ন পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, জমিতে চাষাবাদ, মাটি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই প্রভাবশালী মহলটি বাধা প্রদান করছে। শুধু জমি দখলের চেষ্টাই নয়, আদালতে ভুয়া মামলা দায়েরের মাধ্যমে বৈধ মালিকদের হয়রানি ও প্রকাশ্যে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী রুমা আক্তার জানান:

“জমিটি আমাদের বৈধ ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং সব ধরনের সরকারি কাগজপত্র আমাদের নামে হালনাগাদ রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার দুই উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে দেন-দরবার (শালিস) হলেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। উল্টো তারা মামলা জটিলতা তৈরি করে জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”

সচেতন মহলের দাবি

এদিকে, দখলদারদের এমন বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে জমির প্রকৃত মালিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ দখলচেষ্টা উচ্ছেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর