রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
আমতলীতে চুরি-ডাকাতি, মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনে গ্রাম পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা বন্দরে বিপুল দেশীয় অস্ত্রসহ ‘কুখ্যাত ডাকাত’ খোকন চোক্কাসহ ৩ জন গ্রেফতার বন্দরে পূজার মেলায় ৩ যুবককে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় ‘মেডি স্টার’ হাসপাতালে মা ও গর্ভের সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু ফতুল্লায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাসেলকে খুনের হুমকি দেওয়ানগঞ্জ প্রাইভেট কারে মিলল ২১৫ বোতল ভারতীয় মদ, আটক ২ বন্দরে দেশীয় অস্ত্রসহ মামুন ডাকাতের দুই সহযোগী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার বন্দরে ​মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায়,পুড়িয়ে দেওয়া হলো ‘ফুলের বাগান রেস্টুরেন্ট’ অগ্রবাণী প্রতিদিনের প্রকাশক-সম্পাদক স্বপন কুমার পোদ্দার আর নেই লক্ষীনারায়ণ দুর্গা মন্দিরে বিসর্জন নয়, চলবে নিত্যপূজা: টনি মল্লিক

বিধবা নারীকে ঢাল বানিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা, প্রতিকার চেয়ে নেত্রকোনায় আদালতে মামলা

মোঃবাবুল, নেত্রকোণা / ১১৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের কদম দেওলী গ্রামে বৈধ দলিলভুক্ত মালিকানা জমি দখলের মহোৎসব ও একটি প্রভাবশালী চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বৈধ জমিতে মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির প্রকৃত মালিক রুমা আক্তার।

মামলার বিবরণ ও ভূমির ইতিহাস

আদালতে দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দেওলী মৌজার (জে.এল নং- ৪২) একটি বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে এই বিরোধের সৃষ্টি। ১৯৮২ সালের বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী উক্ত জমির প্রকৃত দখলদার ও মালিক ছিলেন মৃত সাহেরা খাতুন, যার নামে বিআরএস খতিয়ানও রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে সাহেরা খাতুন ৩৬৩০ নং দলিলমূলে ওই জমির ১২ শতাংশ জায়গা একই গ্রামের হালিম মিয়ার নিকট হস্তান্তর করেন। হালিম মিয়া আবার ২০১৮ সালে ১৪২২ নং সাফ কাওলা দলিলমূলে উক্ত ১২ শতাংশ জায়গা তাঁর মেয়ে রুমা আক্তার ও তাঁর বোনের কাছে হস্তান্তর করেন। সর্বশেষ ২০২৫ ইংরেজি সালে রুমা আক্তার ১২৩৮(Ix-I)২৪-২৫ খারিজ মূলে জমিটি নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।

দখলের পাঁয়তারা ও লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডব

অভিযোগে প্রকাশ, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনী ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে রুমা আক্তারের এই বৈধ মালিকানা জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। চক্রটি শেফালি আক্তার নামে এক বিধবা নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঝগড়াবিবাদসহ বিভিন্ন পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, জমিতে চাষাবাদ, মাটি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই প্রভাবশালী মহলটি বাধা প্রদান করছে। শুধু জমি দখলের চেষ্টাই নয়, আদালতে ভুয়া মামলা দায়েরের মাধ্যমে বৈধ মালিকদের হয়রানি ও প্রকাশ্যে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী রুমা আক্তার জানান:

“জমিটি আমাদের বৈধ ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং সব ধরনের সরকারি কাগজপত্র আমাদের নামে হালনাগাদ রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার দুই উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে দেন-দরবার (শালিস) হলেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। উল্টো তারা মামলা জটিলতা তৈরি করে জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”

সচেতন মহলের দাবি

এদিকে, দখলদারদের এমন বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে জমির প্রকৃত মালিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ দখলচেষ্টা উচ্ছেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর