নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার লামাপাড়া শিবু মার্কেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘দরগাহ্ বাড়ি জামে মসজিদ’ পঞ্চায়েত ও কবরস্থান কমিটির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত বাবুল ও হেনা গংদের বিরুদ্ধে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটানো দুটি পরিবারের রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এবং নতুন বাড়িওয়ালাদের জিম্মি করে সম্পত্তি দখলের অভিযোগে এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় টিনের ঘরে বসবাস করা বাবুল মিয়ার চরম অভাব-অনটনের সংসার ছিল। পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে তিনি মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করতেন। অন্যদিকে তার বর্তমান বেয়াই হেনা মিয়া এলাকায় টুকটাক জমি-জমার দালালি করে দিন পার করতেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠলে এলাকায় তাদের সিন্ডিকেটের প্রভাব ও অপতৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
বেয়াই-বেয়াই জোট বাঁধার পর লামাপাড়ায় নতুন কেউ জায়গা কিনে বাড়ি বানাতে এলে তাকে বিভিন্ন কৌশলে জিম্মি করাই ছিল তাদের মূল ব্যবসা। যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়ির মালিকদের অতিষ্ঠ করে তোলা হতো। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সেই মালিকরা পানির দরে বাবুল-হেনা চক্রের কাছে জমি ও বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছাড়তেন।

অভিযোগ রয়েছে, ফতুল্লার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে হাত মিলিয়ে বাবুলের ছেলে আওয়ামী তরুণ ফতুল্লা শাখার সভাপতি রনি নিজের বাসায় ‘সোহেল’ নামের এক ভাড়াটিয়াকে আশ্রয় দিয়ে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। রনি ও তার ভাই মাদক ডিলার আবদুল্লাহর এই সিন্ডিকেট গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে। পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে নিজের গা বাচাতে বিএনপির নেতাদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করে নিজেকে একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা লিপ্ত রয়েছে।
দরগাহ্ বাড়ি জামে মসজিদ, পঞ্চায়েত ও বাজার থেকে প্রতি মাসে ওঠা লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। প্রতি মাসে মসজিদ কমিটি থেকে নিজেদের মোটা অঙ্কের বেতন ছাড়াও তারাবির নামাজে অনভিজ্ঞ স্বজনদের বসিয়ে মোটা অঙ্কের হাদিয়া ভাগাভাগি করে নেওয়া হতো।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সাধারণ মুসল্লিরা গত ৩০ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করায় হেনার ভায়রাভাই (মসজিদের ম্যানেজার)-কে আত্মগোপনে পাঠিয়ে থানায় মিথ্যা নিখোঁজ জিডি করানো হয়। যাতে শাক দিয়ে মাছ ডাকার চেষ্টা, পরে ম্যানেজারে খোজ পাওয়া গেলে তখন জানা যায় তার ব্যাংক একাউন্টে পাওয়া যায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
ইটভাটার দিনমজুর বাবুল ও দালাল হেনা আজ একেক জন ৫ থেকে ৬টি বহুতল ভবনের মালিক। মসজিদের জমি বিক্রি ও দান-ছদকার কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের সন্তানদের নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ার পেছনে দুর্নীতির বড় ধরনের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
লামাপাড়ার ভুক্তভোগী মুসল্লি ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই চক্রের হাত থেকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আশু জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
