বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ভুলভাল’ কাগজেই বৈধ চোরাই বালু? বারহাট্টায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাপ কামিয়েছি, ধুয়ে-মুছে মরতে চাই’ পপির নামে ছড়ানো বক্তব্য নিয়ে যা বললেন নায়িকা নামধারী বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন এমপি কালাম তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় ট্রাম্প, চিঠিতে জানালেন প্রত্যাশা মেসির অবসরে ভারাক্রান্ত কারিনা, দিলেন হৃদয়ছোঁয়া বার্তা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ডেলিভারি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বয় শাহীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালিতে আখতারুজ্জামান মৃধা ও দুলাল মিয়ার নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীদের যোগদান গত ১৭ বছর হায়না, ফ্যাসিস্টদের আক্রমনে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে: মামুন মাহমুদ পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোন বিকল্প নাই:মামুন মাহমুদ

ভুলভাল’ কাগজেই বৈধ চোরাই বালু? বারহাট্টায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: মোঃ বাবুল / ২৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
Oplus_131072

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নের গোড়ল গ্রামে চোরাই বালুর রমরমা ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলমাকান্দার মহাদেও নদী থেকে অবৈধভাবে চুরি করে আনা বালু বারহাট্টায় এনে স্রেফ ‘ভুলভাল’ ও ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বৈধ করার এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটি।

প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে এবং নিজেদের পিঠ বাঁচাতে চক্রটি যে কাগজের অজুহাত দিচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো আইনি ভিত্তি বা সত্যতা মেলেনি।কাগজের শুভঙ্করের ফাঁকি ও ঠিকাদারের দাবি:অনুসন্ধানে জানা যায়, মোবারক, লিমন, রাকিব ও নাদিরের নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেটটি স্থানীয় এক ঠিকাদারের নাম ব্যবহার করে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

Oplus_131072

সংশ্লিষ্ট ওই ঠিকাদারের দাবি— সরকারি ব্রিজের কাজের জন্য সরকারি ডাকের (ইজারা) বালু এখানে এনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।কিন্তু সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

সরকারি নিয়মানুযায়ী ইজারাকৃত বালু পরিবহনের জন্য সুনির্দিষ্ট চালান (টোকেন), বালু উত্তোলনের বৈধ স্থান এবং পরিমাণের সঠিক হিসাব সম্বলিত বৈধ কাগজপত্র থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযুক্ত চক্র বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংবাদকর্মীদের সামনে এমন কোনো বৈধ কাগজ উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। মূলত কলমাকান্দার নিষিদ্ধ এলাকা থেকে চোরাই পথে আনা বালুকে বারহাট্টার ভুয়া বা অন্য কোনো প্রকল্পের কাগজ দেখিয়ে পার পাওয়ার অপচেষ্টা চলছে।দিনের আলোয় চোখ বন্ধ, রাতে বেপরোয়া সিন্ডিকেট:স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে যে ‘ভুলভাল’ কাগজ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, তা খোদ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তারাও ভালো করে জানেন। কিন্তু এক রহস্যময় কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। দিনে ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার বোঝাই করে চোরাই বালু এসে নামছে গোড়ল গ্রামে। সেখান থেকে ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি দিয়ে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

Oplus_131072

সরকারি অর্থায়নে সদ্য নির্মিত গোড়ল থেকে হরিয়াতলা সড়কটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হলেও, এই অবৈধ বালুবাহী ভারী যানবাহনের চাপে ইতিমধ্যেই সড়কটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য— “প্রশাসনকে কাগজের যে ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে, তা আসলে একটা উছিলা মাত্র। মূলত বড় অঙ্কের মাসোয়ারার বিনিময়েই এই অবৈধ ব্যবসা সচল রাখা হয়েছে।”তদন্তের নামে শুধুই আশ্বাস:বিষয়টি নিয়ে আসমা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে (নায়েব) চাপ দেওয়া হলে তিনি “সরাসরি যাচ্ছি” বলে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ঊর্ধ্বতন প্রশাসন “বিষয়টি দেখা হচ্ছে” এবং “ঘটনাস্থলে আসছি” বলে গতানুগতিক বক্তব্য দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা এবং লোকদেখানো তদন্তের কারণে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে এই ‘ভুলভাল’ কাগজের জালিয়াতি খতিয়ে দেখে চোরাই বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো হোক। অন্যথায় সরকারি কোটি কোটি টাকার সড়ক যেমন ধ্বংস হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর