বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
​২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম: ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন আসিফ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১৫৮৫ ফতুল্লায় আওয়ামী নেতা পিতা-পুত্রের তাফালিং,জমি দখলের অপচেষ্টা লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস দূর্গা মন্দির দখলমুক্ত করতে ডিসি বরাবর বিএসপি’র স্বারক লিপি প্রদান ফতুল্লায় র‍্যাবের অভিযান: ঝোপের ভেতর থেকে বিদেশি এয়ার রাইফেল উদ্ধার একজনকে আটকের পর মিলল গোডাউনের সন্ধান: বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার- ২ আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইকালে নারী আটক, প্রশংসিত আনসার সদস্যরা ফতুল্লায় শীর্ষ দুই নেতার ওপর হামলা: বিএনপি নেতা মোহনের পদ স্থগিত মাটি কাটার দিনমজুর থেকে কোটিপতি: মসজিদের টাকায় ফতুল্লায় বাবুল-হেনার রাজপ্রাসাদ

কলমাকান্দায় বালু লুটপাটের মহা উৎসব, হুমকিতে নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ

মোঃবাবুল, নেত্রকোণা / ৯২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদীজুড়ে চলছে অবাধ বালু উত্তোলন ও মজুদের মহা উৎসব। দিনে-রাতে সমানতালে নদী থেকে বালু তুলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই বালু বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে নিজ জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে নদী ও আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি এলাকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসতেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ত রাংপানি এলাকাতেও। তবে গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বালু ও পাথর উত্তোলনের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার বন্ধ হয়নি।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। আগে আড়ালে চলা বালু উত্তোলন এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদীর ছোট-বড় পাথর ও মোটা বালুর বড় অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট বালুও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে উত্তোলন করা হচ্ছে। একসময়কার টিলাসদৃশ বালুর স্তূপও প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। নদী ও আশপাশের চর এলাকা বেলচা-কোদাল দিয়ে খুঁড়ে নেওয়ায় পুরো এলাকা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

 

কলমাকান্দা উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রংছাতি ইউনিয়নের পাতলাবন ও সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামের পাশের লুচ্চাকালী এলাকা অতিক্রম করে তিন নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায় নদীর পানি কমে গেছে এবং আশপাশের গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বালুর অসংখ্য স্তূপ।

 

গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি স্তূপ থেকে বালু নৌকায় তুলছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের অভিযান চলায় প্রকাশ্যে বালু সরানোর প্রবণতা কিছুটা কমলেও রাতের আঁধারে উত্তোলন ও পরিবহন এখনও অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে উপজেলার ডাইয়ার বাজার এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা রয়েছে নৌকা ও বাল্কহেড। এসব নৌযানের মাধ্যমে নদী থেকে উত্তোলিত বালু কখনো তীরে মজুত করা হচ্ছে, আবার কখনো সরাসরি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, অর্ধশতাধিক নৌযান রাতের বেলায় বালু বহন করে নিয়ে যায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দেড় সপ্তাহ আগেও নির্বিচারে বালু লুট হয়েছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। শুধু মহাদেও নদী এলাকাতেই গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আগে হাজারো নৌকার মাধ্যমে বালু ও পাথর লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।”


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর