বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
আমতলীতে স্বপ্নছোঁয়ার উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ ফতুল্লায় ১০পাতা হেরোইনসহ মোহন গ্রেপ্তার ফতুল্লায় এএসআই হামিদ খানকে বহালের দাবিতে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আবেদন ফতুল্লায় বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি তাঁতী লীগ নেতা ইপু গ্রেপ্তার বকশীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণসভায় উত্তেজনা: তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৮-১০ ফতুল্লায় থানার ভেতরে ‘সমঝোতা’ নাকি ‘সালিশ’? প্রশ্নের মুখে পুলিশ কর্মকর্তা আমতলীতে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি’র মাসিক ব্যবসায়ীক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত পানিবন্দী শতাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মেয়র প্রার্থী হাজ্বী রাসেল মাহমুদ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট উপলক্ষে কলমাকান্দায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ১৪৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় জামালপুরের দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হলেও পরে প্রতারণার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নেওয়া হয়। সোমবার (১৫ জুন) নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

নিহতরা হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার রায়েরছড়া গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (৩০) এবং চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল (২৫)।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে কর্মসংস্থানের আশায় দুজন রাশিয়ায় যান। মাফুলকে রাজমিস্ত্রীর কাজ এবং আরিফকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মাফুল এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফ তার চাচাতো ভাই আমিনুরের সহায়তায় বিদেশে যান।

 

তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিবারকে তারা জানান, চাকরির পরিবর্তে তাদের যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারীরা অর্থের বিনিময়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৯ মে সর্বশেষ আরিফ ও মাফুলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

 

নিহত মাফুলের মা মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছিল, যুদ্ধ করতে নয়। তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

 

আরিফের বোন কনিকা জানান, রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে তার ভাইকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে ভাই ফোন করে জানায়, তারা বিপদে আছে এবং বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিল। এখন মৃত্যুর খবর শুনে পরিবার শোকাহত।

 

আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছে। এখন তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।

 

অভিযোগের বিষয়ে আমিনুর রহমান দাবি করেন, তিনি সরাসরি কাউকে বিদেশে নেননি। আরএস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয়েছে এবং তিনি কেবল সহযোগিতা করেছেন।

 

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, সরকারি ও দূতাবাস অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর