বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
​২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম: ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন আসিফ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১৫৮৫ ফতুল্লায় আওয়ামী নেতা পিতা-পুত্রের তাফালিং,জমি দখলের অপচেষ্টা লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস দূর্গা মন্দির দখলমুক্ত করতে ডিসি বরাবর বিএসপি’র স্বারক লিপি প্রদান ফতুল্লায় র‍্যাবের অভিযান: ঝোপের ভেতর থেকে বিদেশি এয়ার রাইফেল উদ্ধার একজনকে আটকের পর মিলল গোডাউনের সন্ধান: বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার- ২ আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইকালে নারী আটক, প্রশংসিত আনসার সদস্যরা ফতুল্লায় শীর্ষ দুই নেতার ওপর হামলা: বিএনপি নেতা মোহনের পদ স্থগিত মাটি কাটার দিনমজুর থেকে কোটিপতি: মসজিদের টাকায় ফতুল্লায় বাবুল-হেনার রাজপ্রাসাদ

নেত্রকোনায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মজিবর মাস্টার বিরুদ্ধে

মোঃবাবুল, নেত্রকোণা / ১০৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নে একটি সমবায় সঞ্চয় ও ঋণ সমিতিকে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, হিসাব জালিয়াতি এবং স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সমিতির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন অনুসন্ধান, অভিযোগ এবং তদন্তের তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের মানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বড়খাপন ইউনিয়নের একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর মাস্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি সমবায় সঞ্চয় ও ঋণ সমিতি লিমিটেডের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে অধিক মুনাফা ও আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। পরে সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র এবং অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৮–২০১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন আর্থিক নথি, হিসাব বিবরণী ও কার্যক্রম পর্যালোচনায় অসংগতি ধরা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব, ঋণ বিতরণ, সঞ্চয় তহবিল পরিচালনা, সভা পরিচালনা ব্যয়, প্রশাসনিক খরচ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের নামে অনিয়ম করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক আর্থিক অসামঞ্জস্য উঠে এসেছে। সেখানে ভুয়া ভাউচার ব্যবহার, কার্বন কপি ছাড়া রশিদ সংরক্ষণ, ফাঁকা রশিদে স্বাক্ষর গ্রহণ, প্রকৃত হিসাব গোপন রাখা এবং নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে নথিপত্রে অসামঞ্জস্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অনিয়মের ফলে প্রায় ২৫ লাখ ৬১ হাজার ১৬৯ টাকা সমিতির তহবিল থেকে আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, সমিতির আর্থিক তথ্য জানতে চাইলে অনেক সময় তাদের যথাযথ জবাব দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নিয়মিত সদস্যদের মতামত ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সদস্যদের কাছে উন্মুক্ত রাখা হয়নি।

 

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে সমিতির সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সমিতির তহবিল পরিচালনা, ব্যাংক হিসাব, সদস্যদের সঞ্চয় জমা, ঋণ কার্যক্রম এবং সভা ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এছাড়া সোনালী ব্যাংক পিএলসি কলমাকান্দা শাখার হিসাব বিবরণীতেও জমা ও উত্তোলনের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের মতে, ব্যাংক লেনদেন ও সমিতির অভ্যন্তরীণ হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং এলাকায় আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন সদস্য ও গ্রামবাসীর দাবি, অভিযোগ প্রকাশের পর কিছু মানুষকে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ, বিভাজন সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি।

 

এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, সমবায় প্রতিষ্ঠান মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সেখানে যদি আর্থিক অনিয়ম বা জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে শুধু সদস্যরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না— পুরো সমবায় ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও কমে যায়।

 

স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্টদেরও বিষয়টি পরিষ্কার করার সুযোগ দিতে হবে।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মজিবর মাস্টারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

বর্তমানে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমবায় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর