নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের নদী ও চরাঞ্চল রক্ষায় এবার একজোট হতে শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নদীখেকো একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অবাধ মাটিকাটা ও তা ইটের ভাটায় সরবরাহের কারণে পুরো এলাকা এখন তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। দিনের পর দিন নদী ও চরাঞ্চলের শত শত একর জমি খুঁড়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বক্তাবলীর প্রতাপনগর ও আনন্দবাজার এলাকার চরাঞ্চল লক্ষ্য করে সক্রিয় রয়েছে এই প্রভাবশালী চক্রটি। এই চক্রটির মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় রতন, সেলিম, মিজান, ছাত্তার, এসি আলী ও আতাউর রহমানের নাম। এরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের যোগসাজশে প্রতাপনগর ও আনন্দবাজার এলাকার নদী তীরবর্তী পলিমাটি ও চরের জমি ড্রেজার এবং ড্রেজারের ট্রেইলার দিয়ে কেটে নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
প্রতিদিন রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয় এই সিন্ডিকেটের তাণ্ডব। গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত চরের মাটি কেটে বিশাল ট্রলার ও বাল্কহেডে করে বক্তাবলীর বিভিন্ন ইটভাটায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এভাবে অবৈধ মাটির জোগান দিয়ে চক্রের সদস্যরা রাতারাতি শত কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছে।
মাটি কাটার ভয়াবহ পরিণতির কথা জানিয়ে প্রতাপনগর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, চরাঞ্চলের মাটি অপরিকল্পিতভাবে কাটার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এতে করে প্রতি বর্ষাতেই নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া ফসলি জমির চরাঞ্চল বিলীন হয়ে চরম হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষিজীবীদের জীবিকা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নানামুখী হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা দ্রুত এই ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান দাবি করেছেন। অবিলম্বে রতন-সেলিম সিন্ডিকেটের মাটি কাটা বন্ধ না হলে এবং এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে পুরো বক্তাবলী এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।