জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার হতাশা থেকেই একটি রাজনৈতিক দল এখন বিভিন্ন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক কৌশলেই বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে অনুষ্ঠিত ফতুল্লা থানা কৃষক দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসান জাফির তুহিন বলেন, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জনগণের রায়ে ক্ষমতায় যেতে না পারায় একটি পক্ষ এখন আন্দোলনের ভাষা ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, অতীতেও বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার বহু চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিল। সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়েও বিএনপির বিরুদ্ধে নানা দমন-পীড়ন চালানো হলেও দলটি জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, হত্যা, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। তবুও দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে রয়েছে এবং গণমানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তুহিন বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে জনগণ এসব অপচেষ্টা সম্পর্কে সচেতন এবং বিএনপিকে কোনোভাবেই রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে না।
সরকারের বিভিন্ন কৃষিবান্ধব উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষক দল দেশের কৃষকদের স্বার্থে সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দলের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং দুর্নীতি কিংবা অর্থ পাচারের রাজনীতি থেকে বিএনপি দূরে থাকবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া ও মামুনুর রশিদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হায়দার খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ডা. শাহিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকদলের সদস্যসচিব মীর হোসেন কামাল, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদসহ স্থানীয় নেতারা।
সম্মেলনের শেষপর্বে জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ডা. শাহিন ফতুল্লা থানা কৃষক দলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। এতে জুয়েল আরমানকে সভাপতি এবং সুমন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।