নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে বিষপ্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে ফতুল্লার রামারবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত আমীর হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে রিমন (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী ও মৎস্যচাষী মো. সালাউদ্দিন (৫২) অভিযোগ করেন, তিনি প্রায় দুই দশক ধরে ফতুল্লার পিলকুনি জোড়া মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি পুকুর ইজারা নিয়ে বিভিন্ন উন্নত জাতের মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি জমিজমা ও পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মীয় আমীর হোসেন ও রিমনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিরোধের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুলাই বিকেলে অভিযুক্তরা সালাউদ্দিনের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এর তিন দিন পর, ১৮ জুলাই স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি খবর পান যে তার খামারের পুকুরে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান রুই, কাতলা, কালিবাউশ, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ মারা গেছে। পরদিন সকালে আবারও পুকুর পরিদর্শন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুই দিনে মোট প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ নষ্ট হওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
বাদীর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ১৭ জুলাই রাতের দিকে অভিযুক্তদের পুকুরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। তাদের ধারণা, ওই রাতেই পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে ব্যাপকহারে মাছ মারা যায়।
ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা আমার মৎস্য খামার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় সালাউদ্দিন বাদী হয়ে আমীর হোসেন ও রিমনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।