গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি। একই সঙ্গে গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. কমরেড সামছুল আলম।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি খাতেই ব্যয় বেড়েছে। অথচ সেই অনুপাতে শ্রমিকদের আয় বাড়েনি। ফলে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষ দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার উপযোগী ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য আন্দোলন পুলিশি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বলপ্রয়োগে নিয়ন্ত্রণের পরিণতি অতীতের সরকারগুলোকে ভোগ করতে হয়েছে। বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে ডা. সামছুল আলম অভিযোগ করেন, গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর পুলিশ দিয়ে হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের সরকারের মতো শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে দমন-পীড়নের পথে হাঁটলে পরিস্থিতির সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের এই আন্দোলন দমন-নিপীড়ন চালিয়ে থামানো সম্ভব নয়। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।