মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
কাঠেরপুল থেকে গ্রেপ্তার আজমতের অনুসারী আফসু হৃদয় আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা দমন-পীড়নে শ্রমিক আন্দোলন থামবে না, দ্রুত মজুরি ঘোষণার দাবি মজদুর পার্টির জমি-বীজ-অধিকার: কৃষকের লড়াই জোরদারে সাতক্ষীরায় অ্যাক্টিভিস্ট প্রশিক্ষণ আমতলীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে কর্মশালা এমপিপুত্রের ছত্রছায়ায় মার্কেট দখল? বিএনপি নেতা হিরনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ মাদকবিরোধী অভিযান চলছে জেলাজুড়ে, আলআমিন নগরে অধরা কারবারিরা! তরুণদের স্বাবলম্বী করতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জে সংবাদভুবনে নতুন কণ্ঠস্বর ‘প্রিয় নারায়ণগঞ্জ ডটকম’ আমতলীতে অসহায় পরিবারের পাশে মানবতার হাত বাড়াল জাহানারা লতিফ মোল্লা ফাউন্ডেশন

এমপিপুত্রের ছত্রছায়ায় মার্কেট দখল? বিএনপি নেতা হিরনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ৪৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে সমবায় ভিত্তিতে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘একতা সুপার মার্কেট’ অবৈধভাবে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড. আবুল কালামের ছেলে ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার ছত্রছায়ায় ও তার প্রত্যক্ষ মদদে মার্কেটটি দখল করা হয়। আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চালানো এই দখলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বস্তি পেয়েছে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। আদালত দখলদারদের আবেদন খারিজ করে পূর্বের কমিটিকে বৈধ সাব্যস্ত করে সেই কমিটি বহাল রেখেছেন। এদিকে মার্কেট দখলের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে
‎
‎আদালত সূত্র জানায়, একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে অবৈধ দাবি করে দখলদার চক্রের পক্ষ থেকে আমিনুল গং নতুন নির্বাচনের আবেদন জানিয়ে আদালতে রিভিশন আপিল করেন। তবে গত ১৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪-এর বিচারক নিভানা খায়ের জেসী এই আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে বন্দর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের পূর্বের রায় বহাল থাকে। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি নির্বাচিত এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ থাকা ১২ সদস্যবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটিই বৈধ হিসেবে বহাল থাকে। এই রায়ের মাধ্যমে বর্তমান দখলদারদের অবস্থান আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
‎
‎আদালতের রায়ের পর বৈধ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, অবৈধ দখলদারদের কোনো দোকান ভাড়া বা অগ্রিম অর্থ দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে।
‎
‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিরন গংয়ের নেতৃত্বে ২০০ জনেরও বেশি বহিরাগত লোকজন নিয়ে মার্কেটটি দখলে নেয়। তাদের সাথে সরাসরি অংশ নেয় আওয়ামী সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত খলিল মেম্বার বাহিনী। দখল প্রক্রিয়ায় ঐদিন এমপিপুত্র আশাকে হীরন বাহিনীর সাথে দেখা যায়। এছাড়া মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী (এলিট ফোর্স) ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে বের করে কার্যালয়টি দখল করে নেওয়া হয়।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলের পর থেকে মার্কেটের ছাদে রাতে মহড়া ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
‎
‎মার্কেটের নিচতলার ‘মেসার্স ময়মুনা আক্তার ড্রাগ হাউজ’-এর মালিক ও মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি  কাবিল হোসেন বলেন, “দখলের পর থেকে চাঁদার দাবিতে আমার প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল থাকা ওষুধের দোকানটি জোরপূর্বক তালা মেরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।” এছাড়া মার্কেটের সুপারভাইজার ও মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে ১১টি মামলার শিকার হয়েছি। আর আজ নিজ দলের নেতারাই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আমাদের রুটি-রুজির জায়গা দখল করছে। রাতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হচ্ছে।”
‎
‎মার্কেট অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং বন্ধ দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী দোকান মালিক কাবিল হোসেন। অভিযোগে আবুল কাউসার আশা, মাজহারুল ইসলাম হিরন ও বিতর্কিত খলিল মেম্বারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও অনুরূপ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
‎
‎একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, ১৯৯৭ সালে ১০১ জন সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি ক্রয় করেন এবং ২০০০ সালে মার্কেট পরিচালনার স্বার্থে সমবায় সমিতি (নিবন্ধন নং- ৩৩৬) গঠন করা হয়। সমবায় আইন মেনে প্রতি ৩ বছর পরপর নিয়মিত নির্বাচন ও সরকারি অডিট হয়ে আসছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকা সত্ত্বেও হিরন রাজনৈতিক পেশিশক্তি খাটিয়ে মার্কেটটি দখলে নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, হীরন বা তার সহযোগীরা সমিতির সাধারণ সদস্যও নন।
‎
‎এদিকে গত ৮ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন এমপির ছেলে আবুল কাউসার আশাকে নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, মার্কেটে ‘স্বৈরাচারের দোসরদের’ ঠেকাতে তারা গিয়েছিলেন। তবে সমবায় সমিতির বৈধ নথি, সদস্য তালিকা ও আদালতের রায়ের সামনে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে আখ্যা দিয়েছেন বৈধ কমিটির সদস্যরা।
‎
‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগে এএসপি ও ওসির নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবির একটি অডিও ফাঁস হলে তাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আন্দোলন চলাকালে নিষ্ক্রিয় থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্য রাখা, অবৈধ গরুর হাটের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বন্দর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশ তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়ে আসছিল।
‎
‎স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির তৃণমূলের অভিযোগ, দলের ক্লিন ইমেজের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এবং আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করে হিরন গংরা পুরো মদনপুর এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ অবস্থায় আইন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যরা।
‎


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর