নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আচার তৈরির অভিযোগ উঠেছে একাধিক কারখানার বিরুদ্ধে। রসুলপুর, শরীফ বাগ, বৌবাজার ও শাহী মহল্লা এলাকার এসব কারখানায় বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নিম্নমানের আচার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, পচা ও নষ্ট কাঁচামাল দিয়ে তৈরি এসব আচার আকর্ষণীয় মোড়কে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে আচার উৎপাদন চলছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পচা বরই, নষ্ট আমসত্ত্ব, জলপাইসহ বিভিন্ন নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আচারে ক্ষতিকর রাসায়নিক, টেক্সটাইল রং ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু কারখানায় খোলা ও অপরিচ্ছন্ন স্থানে ধুলাবালি, মাছি-পোকামাকড়ের মধ্যে আচার তৈরির কাজ চলে। পরে সেগুলো প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়। বাইরে থেকে আকর্ষণীয় মোড়ক ও বাহারি নামের আড়ালে উৎপাদনের প্রকৃত পরিবেশ ক্রেতাদের অজানা থেকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

শিশুদের কাছে আচার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মুখরোচক খাবার। কিন্তু উৎপাদনে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ কাঁচামাল ও খাদ্যমান নিশ্চিত না হলে এ ধরনের খাবার থেকে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দূষিত খাবার খাওয়ার কারণে শিশুদের ডায়রিয়া, বমি, পেটের ব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় আচার উৎপাদন চললেও কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত অভিযান চোখে পড়ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিশুদের জন্য তৈরি খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা যায় না। নোংরা পরিবেশে আচার তৈরি এবং ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব খাবার যেন কোনোভাবেই শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে কুতুবপুরের রসুলপুর, শরীফ বাগ, বৌবাজার ও শাহী মহল্লা এলাকার আচার তৈরির কারখানাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন, উৎপাদিত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন অনুসারে উৎপাদন বন্ধ ও কারখানা সিলগালা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।