নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত বিতর্কিত চেয়ারম্যানরা এখনো বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা মামলার একাধিক এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের নিরবতা এবং কতিপয় রাজনৈতিক নেতার সাথে সখ্যতার সুবাদে তারা দিব্যি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এতে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যানরা হলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী পন্থী নেতা মনিরুল আলম সেন্টু, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমেদ।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ বছর ধরে এই তিন চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবার ও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসতেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা ওসমান পরিবারের খাস দালাল ও একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও মিটিংয়ে বিপুলসংখ্যক লোকবল সরবরাহ এবং আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে তারা দলীয় কার্যক্রমকে চাঙ্গা রাখতেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ আইনগতভাবে তাদের গ্রেপ্তারের কথা থাকলেও তারা বর্তমানে বহাল তবিয়তে ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটির কতিপয় প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তারা এই সুরক্ষাবলায় তৈরি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘না দেখার ভান’ করে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে হত্যা মামলার আসামিদের এমন প্রকাশ্য বিচরণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে অভিযুক্ত মনিরুল আলম সেন্টু, জাকির হোসেন ও শামীম আহমেদকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।