রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
গুপ্ত থেকে উস্কানি দিবেন না,সাহস থাকলে ফতুল্লায় আসুন- অধ্যাঃ মামুন মাহমুদ আড়াইহাজার একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা- ডিসি মো. রায়হান কবির ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন- জেলা প্রশাসক ফতুল্লায় প্রতিদিন অর্ধশত গ্রেপ্তার, বদলাচ্ছে শুধু অপরাধীর মুখ ফতুল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কলমাকান্দায় এসআই পরিমলের বিরুদ্ধে ১০ গ্রামের মানুষের গণবিক্ষোভ চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষকদল নেতা ফয়সাল ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশন থেকেও বহিষ্কার আমতলীতে বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে যুবদল আহবায়কের সংবাদ সম্মেলন! ফতুল্লায় ৮২ পিস ইয়াবাসহ সাব্বির গ্রেফতার মসজিদে চেয়ার-সোফা বসিয়ে সভা, প্রশ্নের মুখে এমপি আয়নুল হক

ফতুল্লায় প্রতিদিন অর্ধশত গ্রেপ্তার, বদলাচ্ছে শুধু অপরাধীর মুখ

মো. সোহেল আহমেদ / ৭১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

একদিকে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান, অন্যদিকে একের পর এক গ্রেফতার। মাদক, ছিনতাই, চুরি, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধে প্রতিদিনই আটক কিংবা গ্রেফতার হচ্ছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি। তাদের পাঠানো হচ্ছে আদালতে। কিন্তু এত অভিযান ও গ্রেফতারের পরও ফতুল্লায় কমছে না অপরাধ। বরং এক অপরাধী গ্রেফতার হলে তার জায়গায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গ্রেফতার হচ্ছে অপরাধী, কিন্তু ধরা পড়ছে কি অপরাধের মূল চক্র? তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও অপরাধের অর্থের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা ও নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের অনেকেই থেকে যাচ্ছে আড়ালে। ফলে একজন গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই একই এলাকায় নতুন কেউ সক্রিয় হয়ে উঠছে।

ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও গ্রেফতারের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, শুধু গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোই যদি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের শেষ ধাপ হয়, তাহলে অপরাধের পুনরুৎপাদন বন্ধ হবে কীভাবে?

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই মাদক, পরোয়ানা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো দিনে গ্রেফতারের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়।

তবে গ্রেফতারের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেও স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধের বিভিন্ন ধরন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে মাদক বিক্রি ও সেবন, ছিনতাই এবং কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যদি প্রতিদিনই নতুন নতুন অপরাধী ধরা পড়ে, তাহলে অপরাধীর সংখ্যা কমছে না কেন?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে ঘিরে এক ধরনের ‘ধরা-পড়া ও ফিরে আসা’র চক্র তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

ফতুল্লায় অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদক ব্যবসার অর্থনৈতিক লাভকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের ভাষ্য, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় কিছু তরুণ ও বেকার যুবক মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। একজন ধরা পড়লে তার জায়গায় আরেকজনকে যুক্ত করা হচ্ছে।

এভাবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা কিংবা বহনকারীদের গ্রেফতার করেও যদি মাদকের সরবরাহ ও অর্থের মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন এমন মত স্থানীয়দের।

ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অপরাধে যারা সরাসরি মাঠে থাকে তাদের একটি অংশ গ্রেফতার হলেও নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা, সরবরাহকারী কিংবা পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত  করে গ্রেপ্তার করতে হবে।

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, বাজার ও বাসাবাড়িতে যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সড়ক ও অলিগলিতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, কিশোরদের আড্ডা এবং মাদকসেবনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অভিযান নয়, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সন্দেহভাজন অপরাধচক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গ্রেফতার ও অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অপরাধের পেছনের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সরবরাহব্যবস্থা অক্ষত থাকলে একজনের জায়গায় আরেকজন আসার সুযোগ থেকেই যায়।

তাদের মতে, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি অপরাধে অর্থের জোগানদাতা, সরবরাহকারী ও প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে তথ্যভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।

ফতুল্লাবাসীর এখন মূল প্রত্যাশা শুধু প্রতিদিনের গ্রেফতারের সংখ্যা নয়, অপরাধ কমেছে কি না, সেটিই যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাফল্যের মাপকাঠি হয়। একের পর এক অভিযান ও গ্রেফতার যদি অপরাধের মূল চক্র ভাঙতে না পারে, তাহলে একই জায়গায় নতুন অপরাধীর আবির্ভাব ঘটতেই থাকবে এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর