বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হলে ১১ দলীয় জোটই জয়লাভ করত। জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয়কে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখা আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমীর তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করে বলেন, “২৪-এর জুলাইয়ে তরুণ ও ছাত্র-জনতার যে আত্মত্যাগ ও রক্তপাত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৬ সালে একটি সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মুক্ত গণতান্ত্রিক আবহে মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই বিপুল জনমতের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া জরুরি। গণতন্ত্রের মূল শর্তই হলো জনগণের রায়কে মেনে নেওয়া। যাঁরা গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করেন, তাঁরা কখনোই গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন না। সংসদেও গণভোটের চর্চা টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “মানুষের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় এই দেশের জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো অটল বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”
বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। ব্যাংক খাত, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পদ, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে ঢালাওভাবে দলীয় লোক বসানো হচ্ছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করে সরকার দেশে একটি অলিখিত ‘একদলীয় শাসনব্যবস্থা’ কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সচেতন দেশবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “বিগত দিনে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ যেভাবে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতকে নিয়ে কটূক্তি করত, বর্তমান সরকারও ঠিক একই কায়দায় বিরোধী শক্তির ওপর বিভিন্ন ‘ট্যাগ’ লাগানোর রাজনীতি শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সচেতন সমাজ এসব সস্তা রাজনীতি আর গিলে খায় না।”
সরকারকে সতর্ক করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, “জনগণের মনের ভাষা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়াকে বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের মতো অহংকারী ও গণবিচ্ছিন্ন পথে হাঁটবেন না। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি,ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ। এছাড়াও সম্মেলনে বিগত আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।