বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন মুরব্বীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও স্মরণসভা সাড়ে ৭ লাখ টাকা বকেয়া রেখেই শহীদ কম্পিউটারে নতুন মিটার, নেপথ্যে ৮৪ হাজারের কারসাজি! কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তার ফতুল্লায় তৃতীয় দিনের আন্দোলনেও উত্তাল শ্রমিকরা, পুলিশের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ ফতুল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বসতঘরে হামলা, বৃদ্ধা মা ও ছেলে আহত কাঠেরপুল থেকে গ্রেপ্তার আজমতের অনুসারী আফসু হৃদয় আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা দমন-পীড়নে শ্রমিক আন্দোলন থামবে না, দ্রুত মজুরি ঘোষণার দাবি মজদুর পার্টির জমি-বীজ-অধিকার: কৃষকের লড়াই জোরদারে সাতক্ষীরায় অ্যাক্টিভিস্ট প্রশিক্ষণ আমতলীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে কর্মশালা

সাড়ে ৭ লাখ টাকা বকেয়া রেখেই শহীদ কম্পিউটারে নতুন মিটার, নেপথ্যে ৮৪ হাজারের কারসাজি!

উজ্জীবিত বাংলাদেশ ডেস্ক / ৬৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় আলম মিয়ার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ফতুল্লা ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাত্র তিন দিনের মাথায় একই বাড়িতে অবস্থিত ‘শহীদ কম্পিউটার’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, আবাসিক মিটার থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ৮৪ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ডিপিডিসি ফতুল্লা অঞ্চলের রিডারম্যান মো. নাসির। তাঁর দাবি, শহীদ কম্পিউটারের মালিক ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বিভিন্ন মামলার কাজ করেন। এ কারণে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য তাঁদের ফোন করে নতুন সংযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো এখতিয়ার রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় আলম মিয়ার বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তার তিন দিন পর পাশের বাড়ির রিপন খন্দকারের বাসাবাড়ির মিটার থেকে অবৈধভাবে শহীদ কম্পিউটারে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে একই দিন ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ পুনরায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু বকেয়া বিল পরিশোধ না করে নতুন করে সংযোগ চালু হওয়ার অভিযোগ ওঠে শহীদ কম্পিউটার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ৮৪ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ডিপিডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মিটার রিডার নাসিরের যোগসাজশে এ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসি ফতুল্লা অঞ্চলের রিডারম্যান মো. নাসিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই দোকানের মালিক ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বিভিন্ন মামলার কাজ করেন। এ কারণে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য আমাদের ফোন করেছেন এবং নতুন সংযোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন।

পুলিশের অনুরোধে বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযোগ রয়েছে, শহীদ কম্পিউটারের মালিক প্রায় সাত বছর ধরে আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ বিষয়ে দোকানমালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রিডারম্যান নাসির প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।

৮৪ হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দোকানমালিক প্রচার করছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে নাসির বলেন, উনার একটি মিটারের বিল পরিশোধ করেছেন, তাই তিনি টাকা পরিশোধ করেছেন।

তবে মিটারটি দোকানমালিকের নামে না হলে তিনি কেন সেই বিল পরিশোধ করলেন এবং নতুন সংযোগের জন্য তাঁকে ৮৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনি এক্সচেঞ্জ স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।

এ বিষয়ে শহীদ কম্পিউটারের মালিক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি লাইন নিয়েছি। বিদ্যুৎ অফিসে অনেক সাংবাদিক ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলেন, আপনি তাঁদের জিজ্ঞেস করুন।

পরে তিনি দাবি করেন, যেদিন বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪০ জন লোক এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, সেদিন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই নন্দন স্যার সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অনুরোধ করলেও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, পরদিন তিনি রিপন খন্দকারের মামার বাড়ি থেকে সংযোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু একজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করায় কর্মকর্তারা এসে সেটিও বিচ্ছিন্ন করে দেন। কে ফোন করেছিলেন, তা-ও তিনি জানেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ অফিস থেকেই তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

তবে নতুন করে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি এবং তিনি ভাড়াটিয়া হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সংযোগ নিয়েছেন, জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম বলেন, ভাই, দোকানে লোক আছে, আমি আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি। এরপর তিনি আর বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।

ফতুল্লা ডিপিডিসির সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সেখানে বিকল্প বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা অবৈধ ও বেআইনি।

তবে একই বাড়িতে শহীদ কম্পিউটারে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে যদি পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা হয়ে থাকে, তাহলে কারা এর অনুমোদন দিলেন? আর কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে সংযোগ দেওয়া হলে কোন বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে? পুলিশের অনুরোধে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি সত্য হলে, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কোথায়?

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ, বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর পুনঃসংযোগ এবং ৮৪ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, সব বিষয়ই নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে মিটার রিডার নাসিরের বক্তব্যে পুলিশের ফোনে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা এবং ডিপিডিসির অনুমোদন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে একই স্থানে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ পুনরায় চালু হলো কীভাবে? ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধের দাবির ভিত্তি কী? আর আবাসিক মিটার দিয়ে সাত বছর ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের দায় নেবে কে?


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর